এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: বিজ্ঞানী ও গবেষকদের নিরলস প্রচেষ্টায় চলতি সপ্তাহেই প্রথম ম্যালেরিয়ার টিকা পেয়েছে বিশ্ব। গত বুধবার এই ভ্যাকসিন WHO-এর অনুমোদন পেয়েছে। এর আগে পর্যন্ত ম্যালেরিয়ার চিকিৎসার জন্য কোনও ভ্যাকসিন ছিল না। প্রতি বছর ম্যালেরিয়ার কারণে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়। এর মধ্যে অধিকাংশের বেশি থাকে শিশু। আশা করা যাচ্ছে, এবার এই ভ্যাকসিনের কারণে বাচ্চারা মশার হাত থেকে রেহাই পাবে। ছড়াতে মশার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। Sub-Saharan Africa-র দেশগুলিতে মশার প্রকোপ অত্যন্ত বেশি থাকায় এখানে ম্য়ালেরিয়ার দাপটও বেশি। গত ৩০ বছর ধরে ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচার জন্য একাধিক ভ্যাকসিন ব্যবহারের চেষ্টা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ফলও মিলেছে। তবে কার্যকরী কোনও ভ্যাকসিন এতদিন ছিল না। ব্রিটিশ ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন এই প্রতিষেধক তৈরি করেছে। ম্যালেরিয়ার ভ্য়াকসিন হিসেবে এটিকে সিলমোহর দিয়েছে WHO। ভ্যাকসিনটির নাম Mosquirix। এই ভ্যাকসিনটি প্রায় ৭৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই ম্য়ালেরিয়ার সঙ্গে লড়তে সক্ষম। ১৯৮০ সাল থেকে এই ভ্যাকসিনটি তৈরির ভাবনা আসে বিজ্ঞানীদের মাথাতে। সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে কাজ শুরু হয়। পিএটিএইচ ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনও এই ভ্যাকসিন তৈরিতে সহযোগিতা করেছে। এখন পর্যন্ত ম্যালেরিয়ার কোনও ১০০ শতাংশ সফল ভ্যাকসিন সামনে আসেনি। তবে বেশ কিছু ভ্যাকসিন নিয়ে এখনও কাজ হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, বিভিন্ন ধরনের ম্যালেরিয়া পরজীবী রয়েছে। ফলে একটি ভ্যাকসিন সব ক্ষেত্রে কাজ করে না। এর ফলেই একটি সঠিক ভ্যাকসিন তৈরি করা একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। ২০১৯ সাল থেকে ঘানা, কেনিয়া এবং মালাউয়ির একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রায় ২.৩ মিলিয়ন শিশুকে এই ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হয়েছে। এটি ছিল WHO-এর একটি পাইলট প্রজেক্ট। উল্লেখ্য, আফ্রিকা মহাদেশে করোনা ভাইরাসের থেকেও বেশি অতিমারি এই ম্যালেরিয়া। ২০১৯ সালে এই রোগে ৩,৮৬,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আর গত দেড় বছরে করোনা ভাইরাসে ২ লাখ ১২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। WHO-র একটি সমীক্ষা থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৫ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রেগুলেটর মারফৎ এই ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে গোটা বিশ্বে অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে WHO-এর ছাড়পত্র পাওয়া জরুরি ছিল। জানানো হয়েছে, এই ভ্যাকসিন ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেবে। ম্যালেরিয়ার উপসর্গ মানবদেহে মশা কামড়ানোর পর ম্যালেরিয়া একটি শরীর থেকে অন্য শরীরে পরজীবির মতো ছড়িয়ে যায়। এই রোগের প্রধান উপসর্গ হল জ্বর, বমি এবং ক্লান্তি।
from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3Dq73ZQ
via IFTTT
No comments:
Post a Comment