এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডে () বেড়াতে গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আটকে পড়েছেন বহু বাঙালি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির তিন বাসিন্দাও। এঁরা অবশ্যে গাড়িতে করে নয়, ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে প্রবণ বর্ষণ ও তুষারধসে এমন জায়গায় আটকে পড়েছেন যেখানে রাস্তা একেবারে ধসে গিয়েছে। ঠিকমত খাবারও মিলছে না। তাই ভিডিয়ো বার্তায় উত্তরাখণ্ড সরকারের কাছে তাঁদের হেলিকপ্টারে উদ্ধারের আবেদন জানান মেমারির এই তিন ট্রেকার। তাঁদের সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবারই তিনজনকে উদ্ধার করেছে উত্তরাখণ্ড প্রশাসন। তবে ঘরে না ফেরা পর্যন্ত উদ্বেগে তাঁদের পরিজনেরা। জানা গিয়েছে, উত্তরাখণ্ডে আটকে পড়া মেমারির এই তিন ট্রেকারের মধ্যে রয়েছেন পারিজাতনগরে বাসিন্দা সঞ্জয় অধিকারী, মেমারি পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের LIC অফিস পাড়ার সন্দীপ বৈরাগী ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীদুর্গা পল্লীর বাসিন্দা কমলেশ ঝাঁ। অষ্টমীর দিন রাত সাড়ে ১১টার ট্রেনে চেপে এঁরা উত্তরাখণ্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এঁরা মূলত পঞ্চচালিতে ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রবল বর্ষণ ও তুষারপাতে মাঝপথেই আটকে গিয়েছেন তাঁরা। কমলেশ ঝাঁ-র স্ত্রী অর্পিতা ঝাঁ বলেন, ‘আমার স্বামী ও তাঁর দুই বন্ধু পঞ্চচালিতে ট্রেকিংয়ে গিয়েছে। ১৫ তারিখ সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছয় তাঁর। তার পরদিন, ১৬ তারিখ বেসক্যাম্পে ওঠে। তারপর থেকেই সেখানে তুষারপাত হচ্ছে। তারা আর এগোতে পারেনি। রাস্তা একেবারে উড়ে গিয়েছে। ফোনের নেটওয়ার্কও ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছে না। খুব চিন্তায় আছি।’ একইভাবে সঞ্জয় অধিকারীর স্ত্রী তাপসী সাহা অধিকারী বলেন, ‘একাদশীর দিন স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। তারপর ফোন করলেও কথা শোনা যাচ্ছে না। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। খুব বৃষ্টি, তুষারপাত হচ্ছে।’ বর্তমানে পিথোরাগড় জেলার দার্মাভ্যালির দান্তুর গ্রামে সেনাবাহিনীর বেস ক্যাম্পে আটকে রয়েছেন মেমারির এই তিন ট্রেকার। তবে কেবল এই তিনজন নন, বাংলার আরও কয়েকজন পর্যটকও সেখানে রয়েছেন। একদিকে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ধসে পড়েছে রাস্তা। বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্যাহত হচ্ছে মোবাইল পরিষেবাও। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে তাপমাত্রা। ফলে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাই অবিলম্বে হেলিকপ্টারে করে তাঁদের উদ্ধারের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিয়ো বার্তায় উত্তরাখণ্ড প্রশাসনের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন বাংলার এই তিন ট্রেকার। ভিডিয়ো বার্তায় সঞ্জয় অধিকারী বলেন, ‘প্রতিদিন মাইনাস ৪, মাইনাস ৬ তাপমাত্রা থাকছে। এত ঠাণ্ডায় থাকার পোশাক আমাদের নেই। খাবারও কমে আসছে। এখন শুধু চাল, ডাল পাচ্ছি। আর কী পাব জানি না। টাকাও শেষ হয়ে আসছে। রাস্তা পুরো উড়ে গিয়েছে। তাই সরকারের কাছএ হেলিকপ্টারে উদ্ধার করার আবেদন জানাচ্ছি।’ এই ভিডিয়ো দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এই তিন ট্রেকারের পরিবারের সদস্যরা। তবে ওই ভিডিয়ো বার্তা বিফলে যায়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তরাখণ্ড প্রশাসন তাঁদের হেলিকপ্টারে করে ধারচুলায় নামিয়ে এনেছে। ধারচুলা থেকে পিথোরাগড় হয়ে কাঠগোদাম থেকে হাওড়ার ট্রেন ধরবেন তাঁরা। তবে ট্রেনে না ওঠা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন তাঁদের পরিবার।
from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3pmKe5J
via IFTTT
No comments:
Post a Comment