ইমোজির ছোঁয়ায় ফের বিকোচ্ছে লক্ষ্মীর ভাঁড়, দিশা দেখাচ্ছেন দুর্গাপুরের তরুণী - onlinewebsite24

Thursday, October 21, 2021

ইমোজির ছোঁয়ায় ফের বিকোচ্ছে লক্ষ্মীর ভাঁড়, দিশা দেখাচ্ছেন দুর্গাপুরের তরুণী

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ইমোজির ছোঁয়ায় হারানো জৌলুস ফিরে পাচ্ছে লক্ষ্মীর ভাঁড়। এমনটাই দাবি দুর্গাপুরের শিল্পী মোনালিসা মণ্ডলের। রং-তুলি দিয়ে লক্ষ্মীর ভাঁড়ে তিনি ফুটিয়ে তুলছেন লাফ, জয়, রিল্যাক্সড, স্মাইলি,হার্ট আইস, কিসিং হার্ট সহ একাধিক ফেস ক্যারেকটার। এছাড়াও শিল্পী লক্ষ্মীর পা, স্বস্তিক চিহ্ন সহ বাংলার বিভিন্ন কারুকার্য তুলে ধরেছেন লক্ষ্মীর ভাঁড়ে। আর এভাবেই প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া লক্ষ্মীর ভাঁড়কে কাজে লাগিয়ে বেকারদের লক্ষ্মীলাভের দিশা দেখাচ্ছেন মোনালিসা। তাঁর দাবি, আদিকালের মাটির লক্ষ্মীর ভাঁড় এখন অর্থ সঞ্চয়ের পাশাপাশি গৃহসজ্জাতেও ব্যাবহৃত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। দুর্গাপুরের ধাণ্ডাবাগ এলাকার বাসিন্দা বছর ৩০-এর মোনালিসা মণ্ডল। তাঁর বাবা দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর মা বাসন্তী মণ্ডলের সঙ্গেই থাকেন মোনালিসা। দর্শনে মাস্টার ডিগ্রি করা মোনালিসা পেশায় গৃহশিক্ষিকা। এলাকায় সংগীত শিল্পী হিসাবেও তাঁর খ্যাতি রয়েছে। তবে অঙ্কন শিল্পী ছিলেন না। কিন্তু, করোনাকালে চলা লকডাউনই তাঁর এই প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়েছে। কোভিডের জেরে গত বছরের এপ্রিল থেকে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করে দিতে হয় মোনালিসাকে। সংগীতানুষ্ঠানও একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আর্থিক টানাটানি শুরু হয়। যার জেরে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন মোনালিসা। এরই মধ্যে তাঁর এক পরিচিত ব্য়ক্তি একটি মাটির লক্ষ্মীর ভাঁড় নিয়ে এসে মোনালিসাকে রং করে দিতে বলেন। সেই লক্ষ্মীর ভাঁড়ে রং করতে বসেই লক্ষ্মী উপার্জনের নয়া উপায় খুঁজে পান মোনালিসা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অঙ্কন শিল্পী না হয়েও, কেবল মনের জোরে লক্ষ্মীর ভাঁড়ে আধুনিকতার ছোঁয়া আনেন তিনি। রাতারাতি এলাকায় সাড়া ফেলেন। এ প্রসঙ্গে মোনালিসা বলেন, ‘কেবল মন ভাল করার জন্য আমি লক্ষ্মীর ভাঁড়, ধুনুচি ও পুজোর মাটির ঘট কিনে এনে নিজের মনের কারুকার্য ফুটিয়ে তুলি। তারপর সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরতেই পরিচিতি সহ আত্মীয়-স্বজনরা উৎসাহিত করেন আমাকে।' তাঁর সংযোজন, 'এরপর মনোযোগ দিয়ে বিভিন্ন মাটির সামগ্রীতে কারুকার্য করতে শুরু করি। তারপর সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় পেশ করতেই একাধিক গ্রাহক মিলে যায়। শতাধিক অর্ডার আসতে থাকে। বর্তমানে শহরের বেশ কিছু মেলাতেও আমার কারুকার্য করা মাটির সামগ্রী নিয়ে বসেছি। ভালো সাফল্য মিলেছে।’ কেবল লক্ষ্মীর ভাঁড় নয়, পুজোর ঘট ও ধুনুচি সহ চায়ের ভাঁড়েও নানা কারুকার্য ফুটিয়ে তুলছেন তিনি। যা সকলের মন কেড়েছে। অন্যদেরও এই কাজ করার উৎসাহ যুগিয়ে মোনালিসা বলেন, ‘মাটির লক্ষ্মীর ভাঁড় বর্তমানে শহরের মানুষ ব্যাবহার করে না বললেই চলে। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া দিতেই লক্ষ্মীর ভাঁড়ের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।’


from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3m2Ys9S
via IFTTT

No comments:

Post a Comment