'রামকৃষ্ণদেব কোনও বিজ্ঞানীর থেকে কম নন', কল্পতরু উৎসবে উপলব্ধি পর্দার ঠাকুরের - onlinewebsite24

Saturday, January 1, 2022

'রামকৃষ্ণদেব কোনও বিজ্ঞানীর থেকে কম নন', কল্পতরু উৎসবে উপলব্ধি পর্দার ঠাকুরের

সৌরভ সাহা রানি রাসমণি ধারাবাহিক যারা দেখেন তাঁরা সবাই আমার পরিচিত। পর্দায় শ্রীরামকৃষ্ণের চরিত্রে যে মানুষ আমায় গ্রহণ করেছেন, যে ভাষাহীন আবেগের স্পর্শ আমি রোজ পাচ্ছি তাতে আমি মানুষের থেকে তার থেকেও অনেক বেশি কৃতজ্ঞ ঠাকুরের কাছে। প্রথমেই বলি এই ধারাবাহিকের মূল চারটি চরিত্র হিসেবে যাঁদের ধরা হয়, অর্থাৎ রানি, রাজ চন্দ্র, মথুর ও শ্রীরামকৃষ্ণ, এর মধ্যে গল্প শুরু হওয়ার আগে প্রথম সিলেক্ট করা হয় আমাকে। এটা যে আমার কাছে কত বড় পাওনা তা কেবল আমিই জানি। প্রায় পাঁচ বছর ধরে আমি লালন করে রয়েছি এই চরিত্রটা। ডে ওয়ানেরও আগে থেকেই। ঠাকুরের জীবন দর্শন, কাজ করতে গিয়ে ও তার আগে, দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই ঘটেছে আমার জীবনে। তবে ঠাকুর ও তাঁর এই জীবন দর্শনের সঙ্গে আমার পরিচয় ছোটবেলাতেই ঘটেছে। রামকৃষ্ণ মিশনে পড়ার সুবাদে। প্রতিটি স্কুলে পড়াশোনা একইরকম হলেও পার্থক্য থেকে যায় পরিবেশগত। এক অন্য ধরনের ডিসিপ্লিন, কোনও রকমের ভেদাভেদ ছাড়া যখন সবাই এক বেঞ্চে বসেছি শুধুমাত্র মেরিটের ভিত্তিতেই বা নিখাদ বন্ধুত্বের টানে, জাতপাতের বিভেদের আভাসও পৌঁছয়নি সেখানে। এই শিক্ষা আজীবনের, যা কেউ হাতে ধরে শিখিয়ে দিতে পারে না, এ যেন এক প্রত্যেক দিনের অভ্যাস। শ্রী রামকৃষ্ণদেবের স্কুলে পড়ার সৌভাগ্যর জন্য আমারও এমন অনেক অভ্যাস তৈরি হয়ে গিয়েছে যা হয়তো আমৃত্যু আমার সঙ্গে রয়ে যাবে। মানুষকে সম্মান দেওয়া... মানুষকে মানুষের মতো করে ভালোবাসা, কোনও রকমের সেখানে ভেদাভেদ নেই, বর্ণের ধর্মের, অর্থনৈতিক কোনও কিছুরই নয়। আরও একটা খাঁটি বিষয় এই স্কুলই আমায় শিখিয়েছে, যা সুস্বাদু তা আমি গ্রহণ করতে পারি, সেটা কোথা থেকে গ্রহণ করছি, তার দাম কত সেটা বড় বিষয় নয়, আমি যেখানে স্বছন্দ সেটাই আমার প্রিয় জায়গা তা যদি কোনও মাটির বাড়ি হয়, তাও। এই জীবন বোধটা আমি পেয়েছি এই স্কুলে পড়ার জন্যই। তাছাড়াও আমার পরিবার রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে জড়িত থাকায় এই একই দর্শনে বিশ্বাস করতে আমি তাদেরও দেখেছি। ফলে ঠাকুরের ওই জীবন দর্শন আমায় কাউকে শিখিয়ে দিতে হয়নি ওটা আমার কাছে রোজনামচার মতোই। স্কুল জীবনে ঠাকুরের ছোট ছোট দর্শন, গানের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল। মানুষ ঠাকুরের সন্ধান ওই বয়সে কেই বা করার চেষ্টা করে? কিন্তু, এই চরিত্রে অভিনয় করতে এসে আমায় জানতে হয়েছে মানুষ ঠাকুর ঠিক কেমন ছিলেন, তার রসবোধ, মানুষের সঙ্গে মেশার ধরন, হাঁটা চলা, সবই। তবে আমি কখনই এমন দাবি করতে পারি না যে শুধুমাত্র অভিনয় করে বা কয়েকটি বই পড়ে আমি 'মানুষ ঠাকুর'-এর সন্ধান পেয়েছি। তাঁকে আমি রোজই নতুন করে জানার চেষ্টা করি...আজও। নানা বই পড়ে, এই ঠাকুর সম্পর্কে জানতে গিয়ে আমি যত বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছি, আমার চোখে রামকৃষ্ণদেব কোনও বিজ্ঞানীর থেকে কম নন, যিনি সব দেখে সব জেনে তবেই পথ খুলে নেন নিজের মনে। রামকৃষ্ণদেব যে সরলতার কথা বলেছেন তার সব হয়তো আমার পক্ষে এখনই এই বয়সে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। আমি জীবনে এই কথাগুলিকে শুধুমাত্র মেনে চলতে পারি। তারপর জীবনে যা হওয়ার তা হবেই যা হওয়ার নয় তা হবে না। যতটা মেনে, পালন করে, ধারণ করে, জীবনে চলতে পারি ততই মানুষ হিসাবে সমৃদ্ধ হব আমি বা আমরা। নানা চরিত্রে অভিনয় করলেও আমি জানতাম এই চরিত্রটা ম্যাজিক দেখাবে, কারণ এর নেপথ্যে যে কাজ গভীর প্যাশন। আর কী শিখেছি এই দীর্ঘ সফরে? ঠাকুরকে শুধুই ফটো ফ্রেমে নয়, বরং কেন তিনি মানুষ হয়েও ইশ্বরের জায়গায় পৌঁছে ছিলেন সেইগুলি নিয়ে যদি আমরা জানতে পারি তবেই আমাদের জীবন আরও সমৃদ্ধ হবে। আর সব শেষে বলি, এই জার্নিটাকে আমি ভীষণভাবে এনজয় করছি। না অর্থ, না যশ না যা পেলাম তার কিছু থাকবে, কিছু চলে যাবে। কিন্তু, এই চরিত্রে অভিনয় করতে যে অংশটা আমার মধ্যে রয়ে গেল, সেই শিক্ষার সবটাই রয়ে যাবে আমার মধ্যে।


from Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা বাংলা খবর - Ei Samay https://ift.tt/3ze27Xj
via IFTTT

No comments:

Post a Comment