চিত্রদীপ চক্রবর্তী আপাতত জঙ্গলমহলের পুলিশ প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ 'গ্যাং অফ ফোর।' আপাতত এদের পাকড়াও করতেই জোরদার তল্লাশি শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। কাদের নিয়ে গড়া এই গ্যাং? জানা গিয়েছে, মদন-জবা, শচিন-শঙ্কর এই চারজনকে মূলত সংগঠন বাড়ানোর দায়িত্ব দিয়ে নতুন করে জঙ্গলমহলে পাঠানো হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, চারজনের বয়স বেড়ে গেলেও নিজেদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পুরো এলাকায় নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলার জন্য এরা স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। মাওবাদী এই নেতাদের মধ্যে মদন এবং জবা দলে জোনাল কমাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। সম্পর্কে এরা স্বামী-স্ত্রী। ৯৮-৯৯ সাল থেকে বেলপাহাড়ি এলাকায় সংগঠন গড়ে তোলার কাজ করেছিলেন দুজনে মিলে। লালগড় আন্দোলন কিংবা পরবর্তী কালে কিষেণজির মৃত্যুর পরে অন্য অনেক নেতা-নেত্রীর হদিশ পেলেও এই দুজনের খোঁজ পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা কখনও পাননি। শুধু তাই নয়, মদন এবং জবার এমন কোনও ছবি গোয়েন্দাদের কাছে নেই যা দিয়ে সহজে তাঁদের সনাক্ত করা যেতে পারে। সিআরপিএফ জওয়ানদের কথায়, ''আমরা নাকাচেকিং করছি ঠিকই। কিন্তু পাশ দিয়ে মদন হেঁটে গেলেও চিনতে পারব না।'' বিষয়টা জবার ক্ষেত্রেও এক। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ''প্রায় ২৫ বছর আগে ওদের সামনাসামনি দেখেছিলাম। তারপরে আর দেখতে পাইনি। ফলে দুজনকে চেনা কার্যত অসম্ভব ব্যাপার।'' প্রায় একই কথা প্রযোজ্য শচিন এবং শঙ্করের ক্ষেত্রেও। এই দুজন ঝাড়খণ্ড পুলিশের কাছে পরিচিতি হলেও এরাজ্যের পুলিশের কাছে তাঁরা পরিচিত মুখ নন। গোয়েন্দাদের যুক্তি, এবারে সংগঠনকে নতুন করে গড়ে তুলতে সেজন্য নতুন মুখদের কাজে লাগানো হচ্ছে। এরই পাশাপাশি রাজ্য কমিটির একসময়ের প্রভাবশালী নেতা সব্যসাচীকেও সংগঠন বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বুধবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক কর্তা জানান, সারেন্ডার করা প্রাক্তন মাওবাদীদের সরকারি পুনর্বাসন প্রকল্পে চাকরি নিয়ে একটা সমস্যা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। যা নিয়ে ক্ষোভও দানা বেধেছে। একই সঙ্গে সরকারি প্রকল্পে সুযোগসুবিধা পাওনা নিয়েও স্বজনপোষন থেকে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যা মাওবাদীদের পায়ের তলায় নতুন করে শক্ত জমি তৈরি করেছে। এমন ঘটনাও ঘটেছে যে, থানার আইসিকে ফোন করে বলা হয়েছে, আমি ল্যান্ডমাইন তৈরি করেছি সেটা বাজেয়াপ্ত করে আমার সরকারি প্যাকেজ পাওয়ার ব্যবস্থা করুন। বিষয়টা এপর্যন্ত থাকলে তাও চিন্তার কারণ ছিল না। কিন্তু গত সপ্তাহে লাবনির জঙ্গলে যেখান থেকে তাজা ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করা হয়েছে সেটা সিআরপিএফ জওয়ানদের তল্লাশি চালানোর রাস্তা। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মাঝে পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও ইদানিং ঝাড়খণ্ডের দিক থেকে স্কোয়াড সদস্যদের যাতায়াত করার খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাতের অন্ধকারে একে সিরিজের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দলটি ঢুকে পড়ছে এদিকে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফিরেও যাচ্ছে আবার পাশের রাজ্যে। প্রথম দিকে গুরুত্ব না দিলেও পর পর ল্যান্ডমাইন উদ্ধার হওয়ার পর থেকে এখন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে । জানা গিয়েছে, বর্তমানে শুধুমাত্র ঝাড়গ্রাম জেলাতে দশ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। তারা ইতিমধ্যেই তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন। তবে আপাতত জেলা পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের লক্ষ্য ঘুরে ফিরে সেই 'গ্যাং অফ ফোর'-এর সদস্যরাই।
from এই সময়: Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা খবর - Ei Samay https://ift.tt/8ncv5bP
via IFTTT
No comments:
Post a Comment