এলাকায় জলের সমস্যা দূর করতে বাড়ি বাড়ি বেআইনি জলের সংযোগ বিচ্ছিন করল পঞ্চায়েত। গ্রামবাসীদের পাল্টা দাবি, পঞ্চায়েত সদস্য জেনেও জলের সংযোগ নেওয়া নিয়ে তাঁদের বাধা দেননি। এমনকি জল চালানো এবং বন্ধ করার জন্য প্রতি মাসে ২০ টাকা করে ঘরপিছু একজনকে দেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। বীরভূমের (Birbhum) রামপুরহাট (Rampurhat) এক নম্বর ব্লকের খরুন পঞ্চায়েত এলাকায় সরকারিভাবে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ট্যাপকল বসিয়ে গ্রামবাসীদের পানীয় জল দেওয়ার কথা। কিন্তু গ্রামবাসীরা বেআইনিভাবে পাইপ দিয়ে বাড়ির ভিতর জল সংযোগ করে নেন বলে অভিযোগ। কেউ কেউ ছোট পাম্প মেশিনের মাধ্যমে জল দোতলায় তুলতে শুরু করেন বলেও অভিযোগ। ফলে গ্রামের ট্যাপকলে জল তেমন পাওয়া যেত না বলেও অভিযোগ। সেই অভিযোগ পেয়েই মঙ্গলবার খরুন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের নেতৃত্বে রামপুরহাট থানার পুলিশকে (Rampurhat Police Station) নিয়ে বেশ কিছু গ্রামে অভিযান চালানো হয়। পঞ্চায়েতের পালশা গ্রামে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি বেআইনি জলের সংযোগ কেটে দেয় পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েতের বড়বাবু এরশাদুল কবীর বলেন, “বেআইনিভাবে বাড়ি ও দোকানে পাম্পের সাহায্যে জল তুলছিল। তিনবার মাইকিং করে জানিয়েছি৷ সদস্যদের মাধ্যমে জানানো হয়েছে৷ কোনও পদক্ষেপ তাঁরা না করায় এদিন সকালে অভিযানে এসে সেই সব বেআইনি জলের লাইন কেটে দিলাম।’’ পরবর্তী সময় যদি বেআইনিভাবে জলের সংযোগ নেয়, তা হলে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানাও ধার্য করা হবে বলে জানান তিনি৷ রমেন লেট নামে এক গ্রামবাসীর দাবি, ‘‘বাড়ি বাড়ি জলের লাইন নেওয়ার জল কম পড়ত৷ এবার বেআইনি লাইনগুলি কাটায় অনেক বেশি জল পড়ছে কলে৷ এতে আমাদের অনেক সুবিধা হল৷’’ কৃষ্ণা লেট নামে এক গ্রামবাসীর দাবি, ‘‘প্রশাসন ঠিকই করেছে৷ এতে আমাদের সবারই সুবিধা হবে৷ এতদিন কম জল পড়ত, এবার আমরা ঠিক করে জল পাব৷’’ গ্রামের বাসিন্দা দশরথ লেটের দাবি, “এলাকায় বেশ কিছু কল খারাপ হয়ে যাওয়ায় জলের সমস্যা হয়েছিল৷ সেই কারণে জলের সংযোগ নিয়েছিলাম৷ এর জন্য যাঁরা মাটি কাটে তাঁদের ২০ টাকা করে দিতে হয়৷’’ গ্রামের বাসিন্দা পাঞ্চালি লেটের দাবি, ‘‘স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য জেনেও আমাদের কিছু বলেননি৷ তাহলে আমরা নিতাম না৷ যে জল বন্ধ করে, চালু করে সে ঘর পিছু মাসে ২০ টাকা করে নেয়৷’’ পঞ্চমী লেট নামে এক মহিলার দাবি, ‘‘পঞ্চায়েতের সদস্য জানেন৷ জল চালানো বন্ধ করার জন্য মাসে ২০ টাকা করে দিতাম৷ সদস্যকে অনেকদিন বলেছি আমাদের বাড়ি কাছে কলটা সারিয়ে দিতে৷ উনি বলেছেন মোটরে জল দিচ্ছি, আবার কল কী হবে৷’’ পঞ্চায়েত প্রধান সুমিত্রা লেটের দাবি, ‘‘জলের কয়েকটি লাইন কেটে দেওয়া হল৷ কারণ বাড়িতে লাইন নেওয়ার নিয়ম নেই৷’’ অধিকাংশ কলই ঠিক বলে জানালেন প্রধান৷ প্রধানের স্বামী গনেশ লেট ফোনে এবিষয়ে বলেন, “জলের পরিষেবা দেওয়ার জন্য পঞ্চায়েত থেকে কোনও কর্মী নিয়োগ হয়নি। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যরা বিষয়টি দেখে। এর জন্য কারও কাছে টাকা নেওয়া হয় না। বেআইনিভাবে জল নেওয়ার জন্যই জলের সংযোগ কাটা হয়েছে।’’
from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/6wSBeW3
via IFTTT
No comments:
Post a Comment