এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: গত বুধবার বার্সেলোনার জেলে গুলি করে আত্মহত্যা করেন McAfee অ্যান্টিভাইরাসের জনক John McAfee। সারা বিশ্বের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন 'অ্যান্টিভাইরাস গুরু' নামে। 2014-2018 সালের মধ্যে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের অনুমোদন দেয় স্পেনের আদালত। আর তার কয়েক ঘণ্টা পরেই তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ম্যাকাফির মৃত্যুর পর জেল কর্তৃপক্ষের তরফে এমনই জানানো হয়েছে। বর্ণময় চরিত্র, খুনের মামলায় জড়িত, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অ্যান্টিভাইরাস গুরু - ম্যাকাফির জীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করতে গেলে, একটা বছর লেগে যেতে পারে। আর সেই কারণেই, তাঁর আচমকা আত্মহত্যার ঘটনা দাগ কেটেছে সারা বিশ্বেই। 1980 সালে McAfee Associates প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জনপ্রিয় এই কম্পিউটার প্রোগ্রামার। কম্পিউটার সিকিউরিটি সফ্টওয়্যার বিক্রি করে মাত্র হাতে গোনা কয়েক দিনের মধ্যেই ম্যাকাফির এই কোম্পানি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যায়। 1994 সালে কোম্পানি থেকে পদত্যাগ করেন জন। সেই সময় 7.7 বিলিয়ন মার্কিন ডলারে McAfee কিনে নিয়েছিলেন Intel। প্রথমে কোম্পানির সাইবার সিকিউরিটির অংশ থাকলেও, পরে 2016 সালে পৃথক সিকিউরিটি কোম্পানি হিসাবে McAfee-কে লঞ্চ করেছিল Intel। কে এই ? 1945 সালে ইউনাইটেড কিংডমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন জন ম্যাকাফি। খুব কম বয়সে ভার্জিনিয়ায় চলে যান তিনি। ম্যাকাফির যখন 15 বছর বয়স, তখন আত্মহত্যা করেছিলেন তাঁর বাবা। নেশাগ্রস্থ ছিলেন তিনি। 2012 সালে এক সাক্ষাৎকারে ম্যাকাফি বলেছিলেন, 'প্রত্যেক সকালে আমি বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুম থেকে উঠি।' গগনচুম্বী সাফল্য ছিল। কিন্তু সে সব একপ্রকার জলাঞ্জলি দিয়েই John McAfee বিক্রি করে দিয়েছিলেন নিজেরই প্রতিষ্ঠিত সেই কোম্পানি। আর তার পর নানান কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন। পরে কী হল? কোম্পানি বিক্রি করতেই, খুব দ্রুত ম্যাকাফির টাকা শেষ হয়ে আসছিল। ফক্কা পকেটে নিদারুণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল 'বড়লোক' ম্যাকাফিকে। 2009 সালের শেষে 100 মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ কমে হয় 4 মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই সময় আর্থিক মন্দার কারণে নিজের একাধিক সম্পত্তি বিক্রিও করতে বাধ্য হয়েছিলেন John McAfee। এছাড়াও বহু দুর্মূল্য ও প্রাচীন শিল্প সংগ্রহ বিক্রি করেছিলেন তিনি। আরও পড়ুন: পরে, QuorumEx নামে একটি কোম্পানি শুরু করেছিলেন। মূলত এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল, হার্বাল বেসড অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা। কিন্তু, 2012 সালে তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন ম্যাকাফি। তাঁর কোম্পানিতে গ্যাং দমন শাখা অভিযান চালিয়ে জানতে পারে যে, তিনি মেথামফেটামিন তৈরি করছিলেন, যা একটি অত্যন্ত আসক্তি যুক্ত এবং অবৈধ ড্রাগ। এই ড্রাগ মানব শরীরে উত্তেজক প্রভাব তৈরি করতে পারে। কিন্তু, তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ না থাকার কারণে এই গবেষণাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানা যায়, যখন পুলিশ অভিযান চালাতে গিয়েছিল সেই সময় জন ম্যাকাফিকে একজন 17 বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে উদ্ধার করা হয়। খুনের সঙ্গে জড়িত হলেন কী ভাবে? প্রতিবেশী গ্রেগরি ফাউল খুনের মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে যায় John McAfee-র। তাঁর জীবনযাপন নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন ফাউল। যদিও, এই খুনের সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে, স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে গা ঢাকা দিয়ে থাকতে শুরু করে দেন ম্যাকাফি। প্রায় এক মাস পালিয়ে বেড়ানোর পরে গুয়েতেমালা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সময় দু'বার হার্ট অ্যাটাকের নাটকও করেছিলেন তিনি। তাঁর নাটক কাজে দেয় এবং তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে ফেরত পাঠানো হয়। সেখানে এক রেস্তোঁরায় ম্যাকাফির সঙ্গে প্রাক্তন যৌনকর্মী জেনিস ডাইসনের দেখা হয়। দেখা থেকে ঘনিষ্ঠতা, আর ঘনিষ্ঠতা থেকে বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় ম্যাকাফি ও ডাইসনের সম্পর্ক। রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা 2015 সালে সাইবার পার্টি প্রতিষ্ঠা করে মার্কিন মুলুকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ঘোষণা করেন জন ম্যাকাফি। সেই বছরেই লিবার্টেরিয়ান পার্টিতে যোগ দেন তিনি। 2020 সালেও প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়েছিলেন John McAfee। আরও পড়ুন: হঠাৎ তাঁর জীবনে এমনতর পরিবর্তন এল কেন? 2019 সালে ম্যাকাফিকে ডমিনিকান রিপাবলিক থেকে একটি ইয়াচে উচ্চ ক্ষমতার অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সামরিক শৈলীর গিয়ার বহন করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। পরে 2020 সালে ইস্তানবুলের বিমানে ওঠার সময় বার্সেলোনা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হন ম্যাকাফি। মার্কিন সরকারের নির্দেশে তাঁকে গ্রেফতার করে স্পেনের পুলিশ। চার বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসিতে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে বিপুল অর্থ রোজগার করেছিলেন তিনি। কিন্তু কত রোজগার করেছিলেন, তার হিসেব পুলিশকে জানাননি John McAfee। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করার চেষ্টা রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। স্পেনের সর্বোচ্চ আদালত তাঁর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করার অনুরোধে শিলমোহর দেওয়ার পরেই, ম্যাকাফির গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় স্পেনের জেল থেকে। তাঁর জীবন নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও তৈরি হয়। 2016 সালে Netflix-এ রিলিজ হয়েছিল সেই ডকুমেন্টারি, নাম Gringo: The Dangerous Life of John McAfee। সোশ্যাল মিডিয়াতেও যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন তিনি। নিজের রঙিন ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্যই মূলত জনপ্রিয় ছিলেন John McAfee।
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/2U2lJNF
via IFTTT
No comments:
Post a Comment