এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: আলিমুদ্দিনে এবার আসতে চলেছে রদবদল? সাদা চুলের নেতা সরিয়ে কি এবার নবীন প্রজন্মকে ঠাঁই দেবে CPIM? রাজ্য কমিটির বৈঠকে শীর্ষ নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ()। কার্যত তিনি জানিয়েছেন, অনেক হয়েছে। আর নয়। না পারলে ছেড়ে দিন। নতুনদের জায়গা দিন। পাশাপাশি, রাজ্য কমিটি থেকে শুরু করে সমস্ত কমিটিতে সর্বোচ্চ কত বয়স পর্যন্ত নেতারা থাকতে পারবেন, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ইয়েচুরি। দলীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া দু'দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকে বঙ্গ CPIM-এর সমালোচনা করেন সীতারাম। নির্বাচনে ধরাশায়ী ফলাফলের জন্য তাঁদের দুরদর্শিতার অভাবকেই দায়ী করা হয়। এমনকী, সাংগঠনিক দুর্বলতা, সংযুক্ত মোর্চা হিসেবে মানুষের মনে জায়গা করতে না পারা সহ একাধিক ইস্যু তুলে ধরে সরাসরি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে CPIM-এর ওয়েবসাইটে। যা বঙ্গ ব্রিগেডের পক্ষে চূড়ান্ত অস্বস্তিজনকও বটে। কারণ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নেতৃত্বের এই কড়া সমালোচনা সরাসরি পৌঁছে যাবে দলের নীচুতলার কর্মীদের মধ্যেও। ফলে নেতৃত্ব আর কোনওভাবেই কেন্দ্রীয় কমিটির পর্যালোচনা ফিলটার করতে পারবে না। সাধারণত নির্বাচনে ভরাডুবি হলে, CPIM-এর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে আলোচনা হয় পলিটব্যুরো বৈঠকে। তারপর সেখান থেকে নোট তৈরি করে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলে রাজ্য জেলা থেকে এরিয়া কমিটি পর্যন্ত। সেইমতোই আসে পরবর্তী নির্দেশ। কিন্তু, এ ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন হল সাংগঠনিক নিয়মের। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ কত বয়সের নেতারা পার্টির কমিটিগুলিতে থাকবেন, তা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশিকা দিয়েছেন সীতারাম ইয়েচুরি। সূত্রে খবর, রাজ্য কমিটির বৈঠকে স্থির হয়েছে, এরিয়া কমিটিতে নেতাদের সর্বোচ্চ বয়স হবে ৬৫। জেলা কমিটির ৭০ বছরের বেশি বয়স্করা থাকতে পারবেন না। সর্বোপরি ৭২ ঊর্ধ্বদের আর রাখা হবে না রাজ্য কমিটিতে। এছাড়াও জানানো হয়েছে ৬০ পেরিয়ে গেলে কোনও ব্যক্তিকে আর নতুন করে সদস্য করা যাবে না। জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্য হলেও শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তেই মান্যতা দিয়েছে রাজ্য কমিটি। বছরের পর বছর পদ আটকে বসে থাকা আর নয়, এবার নবীন প্রজন্মকে এগিয়ে আনার উপরই জোর দেওয়ার নির্দেশ এসে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে। একে গোপালন ভবনের এই ঝাঁঝালো সমালোচনা ওয়েবসাইটে টাঙিয়ে বঙ্গ CPIM-কে উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছেন সমর্থকদের একাংশ। কংগ্রেস এবং মূলত ISF-এর সঙ্গে জোট নিয়ে আলিমুদ্দিনের দোদুল্যমানতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে খুব একটা ভালোভাবে নেয়নি, তাও কার্যত স্পষ্ট ওয়েবসাইট রিপোর্টে। CPIM-এর একাংশ এও মনে করছেন, এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা এক কথায় লজ্জাজনকও বটে। বাংলার ভোট বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি রাজ্য নেতৃত্বকে দায়ী করে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বৃদ্দতন্ত্র আর নয়। এবার তরুণ মুখদেরই এগিয়ে দিতে হবে। মাটির সঙ্গে সংযোগ রেখে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3yUhuTy
via IFTTT
No comments:
Post a Comment