এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: প্রকল্পে পুনর্বাসনের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরের মত জমি অধিগ্রহণ করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। তবু এই প্রকল্প নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত পাথর খাদান অঞ্চলের আদিবাসীরা। বলা যায়, উচ্ছেদের ভয়ে, পুনর্বাসন ঠিকমতো পাবেন কিনা সেই আশঙ্কায় আতঙ্কিত দেউচা-পাচামির বাসিন্দারা। তাঁদের সকলেরই বক্তব্য, সরকারি খাস জমিতে কয়লা খনি হলে স্বাগত। কিন্তু, গ্রাম উচ্ছেদের বিপক্ষে। যদিও Relief প্যাকেজ নিয়ে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের প্রতিক্রিয়া, ‘মুখ্যমন্ত্রী যে প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছেন তা কল্পনাতীত।’ তাঁর দাবি, ‘১০ হাজার কোটি টাকার এই প্যাকেজে আদিবাসীদের কথা ভাবা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্যই এই প্যাকেজ ঘোষণা করছেন। যা কেন্দ্র করতে পারেনি। এতে অনেক উপকার হবে। ওই এলাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকাবাসীরও উন্নতি হবে।’ তাই ওই এলাকার সমস্ত আদিবাসী তা সমর্থন করবে বলেও আশাবাদী Anubrata Mondal। কিন্তু, বাস্তবে কি সকলে খুশি? জবাবে জেলা তৃণমূল সভাপতি বলেন, ‘৪৫ লাখ টাকার একর জমি! একটি ঘর থেকে আরেক ঘরে মালপত্র সরালে ১ লাখ টাকা, সঙ্গে চাকরি। দোকান অন্য জায়গায় সরালে ১ লাখ টাকা। কাজ হারালে মাসিক ১০ হাজার করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাবে। এরকম প্যাকেজ হয় নাকি!’ আদিবাসী নেতা রবীন সরেন, সুনীল সরেন এর বিপক্ষে কথা বলবেন না বলেও দাবি অনুব্রতর। তবে আদিবাসী নেতাদের মুখে অন্য কথা-ই শোনা গেল। প্যাকেজ কার্যকর নয়, আগে গণশুনানি হোক – এমনই দাবি তুলেছেন মহম্মদ বাজার ব্লকের হরিণ সিংহা, গাবারবাথান, বারোমাসিয়ার অধিকাংশ আদিবাসী। আর তাঁদের কথা তুলে ধরে আদিবাসী নেতা সুনীল সরেন বলেন, ‘সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকেদের সঙ্গে কথা না বলে যেভাবে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তাতে আদিবাসী সমাজ ক্ষুব্ধ, আতঙ্কিত। আগেও একই কায়দায় জামুড়িয়ায়, পাণ্ডুয়ার খনি এলাকায় পুনর্বাসন দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও সরকার আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে জোর করে কয়লা খনি করেছে।’ তাঁর অভিযোগ, সরকার একতরফাভাবে তাদের সিদ্ধান্ত জোর করে চাপাতে চাইছে। সেটা কোনভাবে মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে সরকারের প্রতি আদিবাসী নেতার প্রস্তাব, ‘আমরা চাই, এখানকার লোকেদের সঙ্গে সরকার সরাসরি আলোচনা করুক। যে সমস্ত মৌজা এলাকাগুলি নেওয়া হবে, সেই সমস্ত এলাকায় প্রথমে নোটিশ জারি করা হোক। তারপর গণশুনানির ব্যবস্থা হোক। কয়লা খনি হবে কিনা তা এলাকার মানুষই সিদ্ধান্ত নিয়ে ঠিক করবে। তারপর পুনর্বাসন প্রকল্পের কথা আসবে। মানুষ কী পুনর্বাসন প্রকল্প চাইছে, সেটা সবার থেকে মতামত নিয়ে তারপর সরকার প্যাকেজে ঘোষণা করুক।’ একইভাবে বীরভূম জেলা আদিবাসী গাঁওতার সম্পাদক রবীন সরেন বলেন, ‘আমরা চাই মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসন আমাদের সঙ্গে বসুনl কোনভাবেই যেন আদিবাসীদের স্বার্থ বিঘ্নিত না হয়l’ উল্লেখ্য, বীরভূমের মহম্মদ বাজার ব্লকের দেউচা, পাচামি, হরিণ সিঙ্গা, দেওয়ানগঞ্জ কয়লা ব্লকে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ একর জমিতে প্রায় ১,১৯৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার এলাকাজুড়ে ব্যাসল্ট মাটির নিচে সঞ্চিত রয়েছে। এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই কয়লা খনি অঞ্চল থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হলে তা রাজ্যের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। তাই লোকসভা ভোটের আগে রাজ্য সরকার এটিকে পাখির চোখ করে এগোতে চাইছে। কিন্তু, এই প্রকল্পের জন্য প্রায় সাড়ে ৩ হাজার একর জমির প্রয়োজন। সরকারের হাতে ৪৫০ একর খাস জমি রয়েছে। আর আদিবাসীদের জমি রয়েছে ১০৭৪ একর। এছাড়া বন দফতরের অধীনেও জমি রয়েছে। এদিকে সমগ্র এলাকায় ১২টি গ্রামে ২১ হাজারেরও বেশি মানুষের বাস। যারা কৃষিকাজের পাশাপাশি পাথর উত্তোলন করেও জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে গৃহহারা ও কাজ হারানোর ভয়ে কয়লা খনি প্রকল্পের কাজে তাঁরা দ্বিধাগ্রস্ত। যার জন্য বারবার সরকারকে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে হোঁচট খেতে হচ্ছে। এবার বিশাল প্যাকেজ ঘোষণা করেও আদিবাসীদের আস্থা অর্জন করতে সফল হল না বলেই মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা। ফলে আদিবাসীদের আস্থা অর্জন করে কতদিনে রাজ্য সরকার এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা খনি চালু করে রাজ্যের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে সেটাই এখন দেখার!
from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3D3WI61
via IFTTT
No comments:
Post a Comment