বেসামাল টিকাও, কলকাতায় ৪৮.৫৮% পজিটিভ! - onlinewebsite24

Saturday, January 8, 2022

বেসামাল টিকাও, কলকাতায় ৪৮.৫৮% পজিটিভ!

এই সময়: সরল পাটিগণিতের হিসেবটাই সব গোলমাল করে দিচ্ছে! যে পথ পাড়ি দিতে ৩৯ দিন সময় লাগে, সেই পথ যদি মাত্র ১০ দিনেই টপকে ফেলা যায়, তা হলে গতি মাপতে কাগজ কলমের দরকার নেই মোটেই। গত বছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে, বিধানসভা ভোট-আবহে সংক্রামিতের সংখ্যা এক হাজার থেকে ১৮ হাজারের ঘর টপকাতে সময় নিয়েছিল ৩৯ দিন। তৃতীয় টেউয়ে মাত্র ১০ দিনেই এক হাজার থেকে ১৮ হাজারে গণ্ডি টপকে গেল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সৌজন্যে কোভিডের দামাল ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। শনিবার রাজ্যে ১৮,৮০২ জন ও কলকাতায় ৭,৩৩৭ জন কোভিড পজিটিভের খোঁজ মিলেছে। রাজ্যের পজিটিভিটি রেট ২৯.৬০ শতাংশ হলেও কলকাতায় এই অনুপাত ৪৮.৫৮ শতাংশ। আক্রান্তদের সোয়াব নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের যে রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে, তা দেখে বিশেষজ্ঞেরা নিশ্চিত যে কোভিডের বাড়বাড়ন্তের মূলে রয়েছে ওমিক্রনই। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ৩১ ডিসেম্বর ও ৩ জানুয়ারির মধ্যে কল্যাণীর কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো নমুনার মধ্যে দেখা গিয়েছে, ৭১.২ শতাংশই ওমিক্রন। এমনকী শিশুদের আক্রান্ত হওয়াতেও সিঁদুরে মেঘ দেখছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। কেননা, শিশু করোনা রোগীদের নমুনায় দেখা গিয়েছে, ৬৯.২ শতাংশ নমুনাই ওমিক্রনে সংক্রমিত। আর টিকা নিয়েও যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও ৮১ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে ওমিক্রনের হানা। গত বছরের ১ এপ্রিল রাজ্যে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারের ঘর টপকে ছিল। বিধানসভা ভোট মিটতেই ৯ মে আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজারের ঘর টপকে যায়। অর্থাৎ ৩৯ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছিল ১৭ হাজারের কিছু বেশি। গতবারের গ্রীষ্মের সংক্রমণের ছবি এ বারের ভরা শীতে। গত ২৯ ডিসেম্বর রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক হাজারের কিছু বেশি। ৭ জানুয়ারি রাজ্যে সংক্রামিতের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়। মাত্র ১০ দিনেই ১৭ হাজার আক্রান্ত হয়েছেন রাজ্যে। শনিবার সেই সংখ্যা আরও বেড়ে ১৯ হাজারের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে ৪১ দিনে শিখর ছুঁয়েছিল কোভিড। এবার এক-তৃতীয়াংশ সময়ে কোভিড সেই পথ অতিক্রম করবে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের। ওমিক্রনের সংক্রমণের হার করোনাভাইরাসের অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় অনেক বেশি তো বটেই। স্বাস্থ্যভবনের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে স্পষ্ট, টিকাও কার্যত ভোঁতা ওমিক্রনের সামনে। আক্রান্তদের শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, তাও তেমন কোনও শক্তপোক্ত ঢাল তৈরি করতে পারেনি। এর কারণ ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের রূপ বদল। ফলে শরীরে অ্যান্টিবডি ভাইরাসকে চিনতেই পারছে না। চিকিৎসকেরা বলছেন, সেই জন্যই প্রাক্তন সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়, সিপিএম নেতা কৌস্তভ চট্টোপাধ্যায়ের মতো অনেকেই তৃতীয় বার কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন। মন্ত্রী সুজিত বসু, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের মতো দ্বিতীয়বার আক্রান্তের তালিকাও ক্রমে দীর্ঘ হচ্ছে। তাতেই চিকিৎসকদের সন্দেহ আরও দৃঢ় হচ্ছে যে, এ ওমিক্রন না হয়ে যায় না! আক্রান্তদের উপসর্গও প্রায় এক। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, গতবার বাড়ির সব সদস্য আক্রান্ত হলেও ছাড় পেয়েছিল শিশুরা। এ বার কিন্তু শিশুদেরও রেহাই মিলছে না। মার্কিন মুলুকে ওমিক্রনের দাপাদাপি সর্বাধিক। সেখানেও শিশুরা দেদার আক্রান্ত হচ্ছে। ওমিক্রনের রোগীদের যা উপসর্গ সেখানে দেখা যাচ্ছে, এখানেও লক্ষণ প্রায় একই। ফলে আর পরীক্ষা না করেই চিকিৎসকেরা মোটামুটি নিশ্চিত, বাংলায় ওমিক্রন ঝড় শুরু হয়েছে।


from Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা বাংলা খবর - Ei Samay https://ift.tt/3q6QIWc
via IFTTT

No comments:

Post a Comment