এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: চলতি ফেব্রুয়ারির গত ১০ টা দিন ভারতের ইতিহাসে কালো দিন হিসাবেই চিহ্নিত থাকবে। ঠিক যেমনটা ছিল বেস্ট সেলার বইয়ের তালিকায় থাকা রাশিয়ার রাজনৈতিক বিল্পবের'দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন'। সংগীতাকাশে একের পর এক নক্ষত্র পতন। লতাজি ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়লেন আর এক সংগীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয়। আপামর সংগীত জগৎকে শোকে মূহ্যমান করে ৬ ফেব্রুয়ারি ভারত হারাল তার এক রত্নকে।ভারতের নাইটঙ্গেল কোকিলকণ্ঠী লতা মঙ্গেশকরের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে উঠেছিল দেশে ও বিদেশে ভারতরত্ন লতাজির কোটি কোটি অনুরাগী। সেই না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার শোক কাটিয়ে ওঠার দিনেই আবার কেঁপে উঠল বাংলার শিল্পী মহল। গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় শারীরিক জটিলতা নিয়ে ভর্তি হলেন দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে। সেখানে বাঁধ ভাঙা জমায়েতের শিল্পীর সংগীত অনুরাগীদের মঙ্গল কামনাকে বিফল করে মঙ্গলবার রাতেই চলে গেলেন গীতশ্রী শিল্পী। আর তার কণ্ঠের জাদুতে রোমান্টিকতার মজে থাকা আপামর বাঙালি সেই ধাক্কা সামলে উঠার আগেই মঙ্গলবার গভীর রাতে মুম্বইতে ঘটল ভারতের সংগীত জগতের আরেক ইন্দ্রপতন । আকস্মিক মৃত্যু 'ডিস্কো ডান্সার' আর'অমর সঙ্গী'কে ছিনিয়ে বাঙালিকে করে গেল সম্পূর্ণ রিক্ত। সকলে যখন এই তিন শিল্পীকে নিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ও আবেগের কথা বলছেন সেখানে বাবুল বলেন, লতাজি ও সন্ধ্যাদির সঙ্গে কথা বললে একটা অদ্ভুত প্রশান্তি আসত মনের মধ্যে। এঁরা দুজনেই তাঁর মাতৃস্থানীয়া। তাদর দুজনের কাছেই তিনি মাতৃস্নেহ পেয়েছেন বরাবর।সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কালজয়ী গানের প্রতি একরাশ শ্রদ্ধা জানিয়ে বাবুল বলেন,সোনালী অক্ষরে আপামর সংগীত প্রেমীর হৃদয়ে লেখা থাকবে আজীবন। সন্ধ্যাদির সঙ্গে তার দুই তিনবার কথা হয়েছিল। তবু যার গান শুনে ছোট থেকে বড় হওয়া সে যে বড়ই আপনজন। এক সংগীত ব্যক্তিত্ব বাপী লাহিড়ীর খবর শুনেই তাঁর মন ভরে ওঠে অনুশোচনায় । তাঁর অসুস্থতার খবর পেয়ে হাসপাতালে দেখতে না যেতে পারার অনুশোচনায় ভীষণ আফসোস করছেন তিনি। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, "বাপিদা প্রথম বলিউড তথা এই দেশে ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিক নিয়ে এসেছিলেন। পাশাপাশি, তাঁর সুরে তৈরি হিন্দি গানে সুর দেওয়া আজ অবধি সর্বাধিক। বাংলাদেশি শিল্পী রুনা লায়লাকে দিয়ে সুপারনোভা অ্যালবামও ডিস্কো ডান্সারের সেই গান অনবদ্য। তিনি আরও বলেন, আর ডি বর্মন ও বাপিদার গায়কভঙ্গি সম্পূর্ণ ইউনিক। কেউ চাইলেও গাইতে পারবেন না বলেই দাবি করেন বাবুল। গানের সুর করা কমিয়ে দিয়ে শেষ দশ পনেরো বছর তিনি গান গেয়েছেন। সেগুলো অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করেছে বলে দাবি বাবুলের। অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বাবুল জানালেন, বাংলা ছবিতে তাঁর প্রথম ব্রেকের কথা।১৯৯৪ সালে তাঁকে প্রথম সুযোগ দেন বাপ্পি লাহিড়ীই। অতীতের স্মৃতিতে ডুব দিয়ে বাবুল বলেন, মানুষ বাপ্পিদা ভীষণ দিলদরিয়া, ভীষণ মজার একজন মানুষ। তার সোনার অ্যাকসেসারিস নিয়ে ঠাট্টা করলে তিনি সেটা ভীষণ উপভোগ করতেন। প্রতি বছর বাপিদার মুম্বইয়ের বাড়িতে সরস্বতী পুজোতে লতাজি, আশাজী আসতেন। সেখানে সপরিবারে যেতেন বাবুলও। খুব কাছ থেকে দেখে বুঝেছিলাম এই মানুষগুলো ভীষণ ভালো মনের ও খুব মজার মানুষ ছিলেন। আজ এরা দুজনেই নেই। তবু স্মৃতির সাগরে ব্যথিত হৃদয়ে ভারাক্রান্ত হয়ে একটাই গানের কলি গুণ গুণ করলেন বাবুল, ' কভি আলবিদা না কহেনা, কভি আলবিদা না কহেনা'।
from Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা বাংলা খবর - Ei Samay https://ift.tt/1bl3vud
via IFTTT
No comments:
Post a Comment