"হিন্দি কি ভারতের রাষ্ট্রভাষা?" হাইকোর্টে 'নাস্তানাবুদ' অভিযুক্ত এবার সুপ্রিম কোর্টে - onlinewebsite24

Saturday, February 19, 2022

"হিন্দি কি ভারতের রাষ্ট্রভাষা?" হাইকোর্টে 'নাস্তানাবুদ' অভিযুক্ত এবার সুপ্রিম কোর্টে

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: " কি ?" ওই প্রশ্ন নিয়ে বাদানুবাদের জেরে এক ব্যক্তির জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছলেন অভিযুক্ত। ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে। ওই বছর মুম্বই পুলিশের অ্যান্টি নারকোটিক সেল গঙ্গম সুধীর কুমার রেড্ডি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল। তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গাঁজা পাচারের অভিযোগ ছিল। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, যে গাড়ি থেকে অভিযুক্তকে বমাল আটক করা হয়েছিল, তা তার স্ত্রীর নামে কেনা হয়েছিল। ধৃতের বিরুদ্ধে NDPS আইনের 8(c), r/w section 20(c) এবং 29 ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। রেড্ডি তেলঙ্গানার বাসিন্দা হলেও, মাদক উদ্ধার গিয়েছিল মুম্বই থেকে। জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি হিন্দি ভাষা একেবারেই জানতেন না। ফলত গ্রেফতারির সময় নিজের স্বপক্ষে কোনও কথা বলতে পারেননি তিনি। এমনকী জিজ্ঞাসাবাদের সময়ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কোনওরকম কথোপকথন করতে পারেননি তিনি। তেলুগু ভাষী ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার ভাষায় কথা বলেনি পুলিশও। মামলা দায়েরের ক্ষেত্রেও হিন্দি ভাষা ব্যবহার করা। হয়েছে। বম্বে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করার সময় ওই যুক্তি দেখিয়েছিলেন তিনি। মাদক মামলা চলাকালীন বম্বে হাইকোর্টে ওই ব্যক্তির প্রশ্ন ছিল, "হিন্দি কি ভারতের রাষ্ট্রভাষা? সকলকে তা জানতে হবে?" এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের তরফ থেকে ওই জামিনের আবেদন খারিজ করে বলা হয়েছিল, "হ্যাঁ, হিন্দি ভারতের রাষ্ট্রভাষা। ধৃত ব্যক্তি ট্রাভেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার একাধিক ভাষা জানা উচিত। বিশেষত হিন্দি যেহেতু রাষ্ট্রভাষা, সেহেতু সেটি তো জানাই উচিত।" এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত। শুনানি চলাকালীন ধৃতের আইনজীবী জানান, সংবিধানের ২২ ধারা অনুযায়ী, ধৃতকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে তা বোঝানো উচিত। এর জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কিন্তু, এই মামলায় সবটাই করা হয়েছে হিন্দিতে। যা তেলুগু ভাষী ওই ব্যক্তির বোধগম্যই নয়। ধৃতের পিটিশনে লেখা হয়, "জামিনের আবেদনকারী তেলঙ্গনার বাসিন্দা। তিনি তেলুগু ভাষা বলতে এবং বুঝতে পারেন। কিন্তু, তার সঙ্গে সেই ভাষায় কোনওরকমের কমিউনিকেশন স্থাপন করা হয়নি। ভারতের সংবিধানকে উলঙ্ঘন করার পাশাপাশি ওই ব্যক্তির অধিকার খর্ব করা হয়েছে।" বম্বে হাইকোর্টের যুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে বলা হয়েছে, "ভারতের সংবিধান অনুসারে এই দেশের কোনও রাষ্ট্রভাষা নেই। কিছু অফিসিয়াল ভাষা রয়েছে মাত্র। ফলত হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত সঠিক নয়।" এদিকে অভিযুক্ত জানিয়েছেন, তিনি ট্যুর এবং ট্রাভেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হলেও তাঁকে কোনওদিনই হিন্দি বলতে হয়নি। গুগল ম্যাপের মতো প্রযুক্তি থাকায়, রাস্তার সাইনবোর্ডও পড়তে হয়নি কখনও। ফলত হিন্দি শেখার প্রয়োজন হয়নি কখনও।


from Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা বাংলা খবর - Ei Samay https://ift.tt/yLqR7XP
via IFTTT

No comments:

Post a Comment