এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি জানিয়ে পোস্টার। মাওবাদীদের নামাঙ্কিত পোস্টার পড়ল জেলায়। বরাবাজারের পর এবার পোস্টার পড়ল আড়শা থানার জাড়িমোড় ডুংরিডি, সিন্দুরপুর এলাকায়। সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে স্থানীয় মানুষজনের নজরে আসে ওই পোস্টারগুলি। 'মাওবাদ জিন্দাবাদ' লেখা পোস্টারগুলি লাল কালিতে ছাপা হয়েছে। তাঁদের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, উল্লেখিত ১৩ দফা দাবি পূরণ না হলে আবার জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হবে মাওবাদীরা। আড়শা থানার পুলিশ গিয়ে পোস্টারগুলি উদ্ধার করে। পরপর মাওবাদীদের পোস্টার পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। পোস্টারের বয়ান রয়েছে, "দুয়ারে মদ প্রকল্প বন্ধ করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনের কোনও রাজনৈতিক দলের দাস হয়ে কাজ করা চলবে না। সমস্ত ভাতা প্রকল্প বন্ধ করে সব পরিবারকে সরকারি চাকরি দিতে হবে। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কোনও মাওবাদীকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যাবে না।" উল্লেখ্য, পুরভোটের আগের দিন গত শুক্রবারও আড়শা থানা এলাকার মোট আটটি জায়গা থেকে সিপিআই (মাওবাদী) নামাঙ্কিত পোস্টার উদ্ধার হয়েছিল। তারপর বরাবাজার এলাকা থেকেও এর আগে তৃণমূলের নাম উল্লেখ করে পোস্টার পড়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই পুরুলিয়ার বিভিন্ন থানা এলাকায় প্রায় ধারাবাহিকভাবে সিপিআই (মাওবাদী) নামাঙ্কিত পোস্টার উদ্ধার হচ্ছে। যার অধিকাংশই মাওবাদীদের নয় বলে দাবি পুলিশের। কিন্তু, আটদিনের মধ্যেই আবার একই ছাপার হরফে পোস্টার পড়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করছে শাসকদল। উল্লেখ্য, বছরখানেক ধরে বিভিন্ন এলাকায় মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টারগুলি উদ্ধার হলেও পুলিশের তরফে সেভাবে কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তবে সম্প্রতি আড়শার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা রুজু করা হয়। অন্যদিকে গতবছর, বরাবাজার ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক মাওবাদী নামাঙ্কিত পোষ্টার উদ্ধার হয়। বরাবাজার গ্রাম পঞ্চায়েত, বেড়াদা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং তুমড়াশোল গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামে উদ্ধার হয় লাল কালিতে লেখা মাওবাদীদের নামাঙ্কিত পোস্টার। এই ঘটনায় তৃণমূল পরিচালিত পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, "মাওবাদীরা কয়েক দফা দাবি জানিয়ে পোস্টার ফেলেছে। সেগুলি সত্যিই মাওবাদীরা ছড়িয়েছে কি না, তা জানতে পুলিশকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। যেভাবে ছাপার হরফে পোস্টারগুলি বানানো হয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে এর পিছনে উন্নত মস্তিষ্কের চিন্তাভাবনা কাজ করছে। তবে এই কয়েক দফা দাবির মধ্যে বেশ কিছু দাবি অমূলক।"
from Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা বাংলা খবর - Ei Samay https://ift.tt/7LJZMid
via IFTTT
No comments:
Post a Comment