সংখ্যালঘু মহিলাদের প্রকাশ্যে অপহরণ এবং দিয়ে বিপাকে এক ধর্মগুরু। ঘটনার ১১ দিন পর তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের এই ঘটনায় ধৃত ব্যক্তির নাম বজরং মুনি দাস ()। তাঁকে ১৪ দিনের জন্য বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট আদালত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে সীতাপুরের খৈরাবাদে থাকেন এই ধর্মগুরু। এই এলাকায় তাঁর একটি আশ্রম রয়েছে। তাঁর ভক্ত ও অনুগামীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। দিন কয়েক আগের ঘটনা। হঠাৎই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। সেই ফুটেজের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এই সাধু মহারাজ! একটি চারচাকা ছোট গাড়ির সামনে, চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন তিনি। মুখে ধরা ছিল মাইক্রোফোন। ছবি দেখে বোঝা যাচ্ছে, গাড়িটি দাঁড়িয়ে রয়েছে স্থানীয় কোনও মসজিদের সামনে। গাড়ি ঘিরে রয়েছেন গুরুদেবের অসংখ্য ভক্ত। সকলের সামনেই বজরং মুনি বলেন, যদি এই এলাকায় কোনও হিন্দু মেয়ের শ্লীলতাহানি করা হয়, তাহলে তিনি বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের ঘরে ঢুকে তাঁদের বাড়ির মেয়েদের বাইরে টেনে বের করে আনবেন! আর তারপর প্রকাশ্যেই তাঁদের করবেন! সাধুবাবার মুখে এমন বাণী শুনে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন তাঁর ভক্তরা! এমনকী, তাঁদের মুখে জয় শ্রীরাম ধ্বনিও শোনা যায়। সবথেকে বড় বিষয় হল, ঘটনার সময় সেখানে বেশ কয়েকজন উর্দিধারী উপস্থিত ছিলেন। এমনকী, তাঁদের মধ্যে দুজন তো বাবাজির গাড়িতেই সওয়ার ছিলেন! তারপরও তাঁরা কোনও প্রতিবাদ করেননি। এদিকে, এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সমাজের সর্বস্তরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার বেশ কয়েক দিন পর বজরং মুনি দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ। শেষমেশ ঘটনার ১১ দিন পর তারা এই ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল। তবে, আদালতে পেশ করার পর অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিতে চায়নি পুলিশ। তাই তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। পুলিশের এই আচরণ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। সমালোচকদের বক্তব্য, যেহেতু এই ঘটনার সঙ্গে একজন ধর্মগুরু জড়িত রয়েছেন, তাই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতেই চাইছে না। স্রেফ চাপের মুখে পড়েই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে তারা। অনেকেরই আশঙ্কা, পুলিশের এমন আচরণই দুষ্কৃতীদের এই ধরনের অপকর্ম করতে আরও ইন্ধন জোগাবে।
from এই সময়: Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা খবর - Ei Samay https://ift.tt/2zOILj1
via IFTTT
No comments:
Post a Comment