ফরাসি প্রেসিডেন্টের গদি অক্ষতই রাখলেন ()। দ্বিতীয়বারের জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হলেন তিনি। দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনের বেড়া টপকে আবারও সফল ইউরোপপন্থী এই রাজনীতিক। ফ্রান্সের ইতিহাসে ২০ বছর পর কোনও রাষ্ট্রনেতাকে দ্বিতীয়বারের জন্য বেছে নিল জনতা। ইম্য়ানুয়েলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল চরম ডানপন্থী নেত্রী মেরিন লা পেনের (Marine Le Pen) সঙ্গে। ভোটের ফলাফল বলছে, ইম্যানুয়েল পেয়েছেন ৫৮.২ শতাংশ ভোট। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে তাঁর থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন মেরিন। তাঁর প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ ৪১.৮ শতাংশ। এদিন জয়ের পরই রাজধানী প্যারিসে বিজয়যাত্রা বের হয়। সেই শোভাযাত্রা শেষ হয় বিশ্ববিখ্যাত আইফেল টাওয়ারের সামনে। সেখানে দাঁড়িয়েই দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তবে, জয় ছিনিয়ে নিতে পারলেও আপাতত খুব বেশি স্বস্তিতে থাকতে পারবেন না ইম্যানুয়েল। কারণ, হিসাব বলছে, গত বছরের তুলনায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তাঁর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান কমেছে। একইসঙ্গে, ২০১৭ সালের তুলনায় এবার ভোটও বেশ কিছুটা কম পড়েছে। মেরিন যে চরম ডানপন্থায় বিশ্বাসী, তা তিনি কখনও লোকানোর চেষ্টা করেননি। এবং তাতে কাজও হয়েছে। ডানপন্থী প্রার্থী হিসেবে রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়েছেন তিনি। তিনি বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যার মধ্যে অন্যতম ছিল, তিনি ক্ষমতায় এলে গোটা দেশে হিজাব নিষিদ্ধ ঘোষণা করবেন। ফ্রান্সে জীবন যাপনের ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়েও সরব হয়েছিলেন মেরিন। সেইসঙ্গে, আগামী দিনে সরকারি ক্ষেত্রে কর্ম নিয়োগের প্রশ্নে ভূমিসন্তানদেরই অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মেরিন। বলা বাহুল্য, মুসলমান সম্প্রদায় এবং অন্য়ান্য দেশ ও মহাদেশ থেকে ফ্রান্সে থাকতে আসা মানুষজনের মেরিনের এইসব প্রতিশ্রুতি পছন্দ হয়নি। আর সেই কারণেই তাঁকে হারতে হয়েছে। কিন্তু, একইসঙ্গে প্রাপ্ত ভোটের শতাংশের হিসাব বুঝিয়ে দিচ্ছে, ফরাসি জনতার মধ্যেও কট্টরপন্থা রয়েছে। আর সেই মানুষগুলি একজোট হয়ে মেরিনকে ভোট দিয়েছেন। সুতরাং আগামী দিনে এগুলি নিয়ে ভাবতে হবে ইম্যানুয়েল ম্য়াক্রোঁকে। নির্বাচনী প্রচার এবং ইস্তাহারে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি তাতে লাগাম পরানোর দাওয়াই দিয়েছিলেন ইম্য়ানুয়েল। একইসঙ্গে, আইনে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা, চাকরিতে অবসরের বয়স নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করা প্রভৃতি তাঁর আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল। কিন্তু, মেরিন প্রচারে নামতেই 'রাস্তা বদল' করতে হয় ফরাসি প্রেসিডেন্টকে। মেরিন মূলত কট্টর এবং প্রাচীনপন্থী ইউরোপীয় ভাবনা নিয়েই প্রচার করেছেন। ফলে তার পালটা ঘুটি সাজাতে হয়েছে ইম্য়ানুয়েলকেও।
from এই সময়: Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা খবর - Ei Samay https://ift.tt/M2OqS5k
via IFTTT
No comments:
Post a Comment