সুগত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার হাত থেকে ও দিঘাকে রক্ষা করতে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সাহায্য নেবে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই সেখানকার বিশেষজ্ঞরা রাজ্যে পৌঁছেছেন। কল্যাণীর রিভার রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজও শুরু করেছেন। এই দুই উপকূলবর্তী এলাকার রক্ষায় আগেই নীতি আয়োগের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। উম্পুন, ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়ে এই দুই এলাকার বিপুল ক্ষতি হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে পুরোনো বাঁধ, যা কংক্রিটের করার আর্থিক ক্ষমতা রাজ্যের নেই। তাই আয়লায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের ৬০ শতাংশের মেরামতি এখনও হয়নি সুন্দরবন এলাকায়। নীতি আয়োগের থেকে সদুত্তর না মেলায় রাজ্য সময় নষ্ট না-করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের (এডিবি) দ্বারস্থ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সম্মতি মিলেছে। নবান্নের এক কর্তার কথায়, ''সুন্দরবন ও দিঘার মতো সমস্যা ছিল নেদারল্যান্ডসে। তাদের তৈরি মডেল এখন গোটা বিশ্বে গৃহীত হয়েছে। এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে জ্ঞানবিনিময় কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে নেদারল্যান্ডস সরকারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকার চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। বিশ্ববঙ্গ শিল্প সম্মেলনেই লেটার অফ ইনটেন্ট সই হয়। মূলত তারা সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার সুরক্ষিত করবে। এ ছাড়া নদী, খালের সংস্কার, জলের লবণ নিয়ন্ত্রণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মৎস্য চাষ ও কৃষির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বায়ো ডাইভারসিটি রক্ষায় কাজও করবে। প্রকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষয়ক্ষতি পুনরুদ্ধারে নয়া প্রযুক্তি দেবে।'' জানা গিয়েছে, নেদারল্যান্ডসের এই দলটিতে ডাইক ও ডেলটা মরফোলজিস্ট রয়েছেন। প্রকৃতি ও পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে সুন্দরবন ও উপকূলবর্তী এলাকায় নদী ভাঙন রোধের দিকটি তাঁরা দেখবেন। ম্যানগ্রোভের পাশাপাশি ভেটিবার গ্রাস নামক একজাতীয় ঘাস লাগিয়ে নদীর পাড়ের ভাঙন রোখা গিয়েছে নেদারল্যান্ডসে। সুন্দরবন উপকূলবর্তী এলাকার মূল সমস্যাই হলো নোনা জল। নেদারল্যান্ডস এ ক্ষেত্রে তাদের দেশে সফল্য পেয়েছে। মূলত উপগ্রহ চিত্রকে কাজে লাগিয়ে নদীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করে এই উপকূলবর্তী এলাকাকে সুরক্ষিত করতে চান বিশেষজ্ঞরা। জানা গিয়েছে, দু'বছর ধরে নেদারল্যান্ডসের বিশেষজ্ঞদল রাজ্যে নিরীক্ষণ চালাবে। প্রথম বছরে তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সেচ দপ্তর সুন্দরবন ও দিঘা মাস্টারপ্ল্যানের ডিপিআর তৈরি করতে চায়। গত মাসেই এডিবি প্রতিনিধি দল রাজ্য ঘুরে গিয়েছে। প্রাথমিক আলোচনায় সুন্দরবন ও দিঘা উপকূলরক্ষায় আর্থিক সাহায্য দিতেও সম্মত হয়েছে। তবে এই টাকা আসতে আরও এক বছর লেগে যাবে। রাজ্য সরকার চায় নেদারল্যান্ডসের বিশেষজ্ঞরা রাজ্যে থাকাকালীন সুন্দরবন ও দিঘা মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণের কাজ শুরু করে দিতে।
from এই সময়: Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা খবর - Ei Samay https://ift.tt/m4DBpfK
via IFTTT
No comments:
Post a Comment