বাকি বিশ্বকে নিজের ক্ষমতার বহর দেখাতে সর্বদাই মরিয়া থাকেন উত্তর কোরিয়ার () শাসক ()। আর সেটা করতে গিয়েই গোটা দেশের বিপদ ডেকে আনলেন তিনি! গত ২৫ এপ্রিল কোভিডবিধির তোয়াক্কা না করেই রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে (Pyongyang) বিরাট সামরিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। উপলক্ষ ছিল সেনার প্রতিষ্ঠা দিবস। সেই অনুষ্ঠানে সামরিকবাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা কুচকাওয়াজে অংশ নেন। বিরাট বিরাট সব মারণ অস্ত্র প্রদর্শন করা হয় সেখানে। বাধ্যতামূলকভাবেই সেসব চাক্ষুস করতে হাজির হন হাজার হাজার মানুষ। আর তার কিছুদিনের মধ্য়েই দেশজুড়ে খেল দেখাতে শুরু করে ভাইরাস ()। ওয়াকিবহাল মহলের হিসেব বলছে, কিমের ঔদ্ধত্য এবং খামখেয়ালিপনার জন্যই আজ গোটা দেশে করোনা () ছড়িয়ে পড়েছে। কুচকাওয়াজের ওই মাঠই মুহূর্তে পরিণত হয়েছে করোনার সুপারস্প্রেডার হিসেবে। এদিকে, করোনা বাড়বাড়ন্ত শুরু হতেই পিলে চমকে গিয়েছে 'দোর্দণ্ডপ্রতাপ' রাষ্ট্রনেতার। এখন মুখে মাস্ক এঁটে জরুরি বৈঠক সারছেন কিম জং-উন। তাঁর চোখে, মুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু, সবথেকে বিপাকে পড়েছেন সেইসব অগুন্তি সাধারণ নাগরিক, যাঁরা শুধুমাত্র শাসকের হুকুম তামিল করতে গত ২৫ এপ্রিলের সামরিক অনুষ্ঠান দেখতে রাজধানীতে জড়ো হয়েছিলেন। সূত্রর দাবি, করোনার প্রকোপ সামনে আসতেই অন্তত ১০ হাজার মানুষকে বাকিদের থেকে আলাদা করে দিয়েছে প্রশাসন। তাঁদের দেখভাল আদৌ ঠিক মতো করা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এদিকে, এরই মধ্যে শুক্রবার উত্তর কোরিয়ায় প্রথমবারের জন্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর কথা সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের দাবি, এটি কখনই প্রথম মৃত্যু হতে পারে না। এতদিন আসলে তথ্য গোপন করে রেখেছিল প্রশাসন। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের তরফে সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করা হয়েছে, গত ২৫ এপ্রিলের অনুষ্ঠানে ২০ হাজারেও বেশি মানুষ পিয়ংইয়ংয়ের অনুষ্ঠান স্থলে জমায়েত করেছিলেন। সেখানে শারীরিক দূরত্ববিধি মানার কোনও বালাই ছিল না। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতিমধ্যেই ওমিক্রনের দাপটে বেহাল চিনের একাধিক শহর। তারপরও হুঁশ ফেরেনি কিমের। বরাবরের মতো নিজের খেয়ালখুশি মাফিক চলতে গিয়ে গোটা দেশের মানুষকেই বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২০ সালেও করোনাবিধি উপেক্ষা করে বিরাট সামরিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল কিমের দেশ। যদিও গত দুবছর ধরে কিম জং-উনের প্রশাসন দাবি করে আসছে, তাদের দেশে নাকি একজনও করোনায় আক্রান্ত হননি। করোনা দূরে রাখতে সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছিল। যার জেরে সেই সময় চরম খাদ্যাভাব ও দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় দেশবাসীকে। অবশ্য উত্তর কোরিয়া কোনও দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে সেকথা স্বীকার করেনি।
from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/eRuMb0x
via IFTTT
No comments:
Post a Comment