বাঁকুড়ার দামোদর শেঠ! একটা সবজি দিয়েই অনায়াসে খেয়ে নেন দু-কেজি চালের ভাত - onlinewebsite24

Thursday, May 12, 2022

বাঁকুড়ার দামোদর শেঠ! একটা সবজি দিয়েই অনায়াসে খেয়ে নেন দু-কেজি চালের ভাত

"অল্পেতে খুশি হবে/দামোদর শেঠ কি!/মুড়কির মোয়া চাই,/চাই ভাজা ভেটকি..." না, রবি ঠাকুরের দামোদর শেঠের মতো মুড়কির মোয়া, ভাজা ভেটকি, ঘি, বোয়ালের পেট, কাঁকড়ার ডিম ইত্যাদি কিছুই চান না মানুষটি। দামোদর শেঠের মতো কলেবর বা ওজনও তিন মন নয়। ছিপছিপে লম্বা চেহারার গড়ন বাঁকুড়ার খাতড়া মহকুমার দুলাল চন্দ্র মুর্মু। তবে খাওয়ার পরিমাণে দামোদর শেঠের সঙ্গে তুলনা আসবেই। একটা সবজি আর এক টুকরো মাছ হলেই অনায়াসে খেয়ে ফেলতে পারেন প্রায় দু'কেজি ওজনের চালের ভাত। তবে তাঁর খাবারে বিরক্ত নন কেউই। বরং খাতড়ার দামোদর শেঠ যেমন খেয়ে সন্তুষ্ট, তেমনই তাঁকে খাইয়ে তৃপ্ত হোটেল মালিক সকলেই। হীড়বাঁধের পড়্যারডাঙ্গা গ্রামের দুলাল চন্দ্র মুর্মু পেশায় খাতড়া মহকুমা আদালতের মুহুরি। প্রতিদিন বাড়ি থেকে ১৬ কিমি সাইকেল চালিয়ে কাজে আসেন তিনি। কাজের ফাঁকেই SDO মোড়ের কাছে একটি হোটেলে দুপুরের খাবার খান তিনি। এই হোটেলে মাত্র ৫০ টাকাতেই পেট ভর্তি খাবার মেলে। কিন্তু দুলালবাবু একাই এক কেজির বেশি চালের ভাত খান। মাত্র ৫০ টাকায় ওনাকে খাইয়ে ৩০ টাকার মতো লোকসান হয় হোটেল মালিকের। তবে তাতেও তিনি খুশি। বলেন, "এখন মানুষ খুব বেশী খেতেই চায় না। উনি খান। তাই লোকসান হলেও ওঁকে খাইয়ে আমরা আনন্দ পাই।" দুলাল চন্দ্র মুর্মুর সহকর্মী এক আইনজীবি বলেন, "ওনার (দুলাল চন্দ্র মুর্মুর) খাওয়ার সাক্ষী আমরা দীর্ঘ দিনের। তিনি খেতে খুবই ভালোবাসেন এবং খেতেও পারেন। যা বর্তমানে সচরাচর দেখা যায় না।" সম্প্রতি একটি বিয়েবাড়িতে দুলাল চন্দ্র মুর্মু ৩০ টি নান, ১ কেজি খাসির মাংস এবং ৫০টির মতো রসগোল্লা খেয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। দুলাল চন্দ্র মুর্মুর সঙ্গে তিনি ওই বিয়েবাড়িতে খেতে বসেছিলেন এবং ঘটনাটি চাক্ষুষ করেছেন বলেও জানান ওই আইনজীবী। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে এক থেকে দু-কেজি চালের ভাত খাওয়া সাধারণত অবাক করা ঘটনা। অনেকে দুলালবাবুকে খাইয়ে খুশি হলেও হাসাহাসি করেন অনেকেই। তবে এসব কোনও বিষয়েই মাথা ঘামাতে নারাজ দুলাল চন্দ্র মুর্মু। তাঁর কথায়, শারীরিক পরিশ্রম করি। সে কারণে কোনও সমস্যা হয় না। বাড়িতে ২ কেজি চালের ভাত খেলেও হোটেল মালিকের মুখ চেয়ে মাত্র ১ কেজি চালের ভাত খেয়েই সন্তুষ্ট থাকেন বলে জানান। কিন্তু দু-কেজি চালের ভাত খাওয়া সত্ত্বও কিন্তু মেদহীন চেহারার রহস্য কী? সহাস্য দুলালবাবুর জবাব, "অত্যধিক পরিশ্রম করি। তাই হজম হয়ে যায়।"


from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/r26mEFZ
via IFTTT

No comments:

Post a Comment