তিব্বতে () চিনের ঘাঁটি আরও পোক্ত করতে নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা রয়েছে সেদেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ()। সূত্রের দাবি, তিব্বতের জন্য একটি পৃথক কমিটি গঠনের কথা ভেবেছে বেজিং। কিন্তু, প্রেসিডেন্ট নিজে চাইছেন, সেই কমিটির সদস্যরা যেন চিনা কমিউনিস্ট আদর্শেই বিশ্বাসী হন। যাতে থেকে চিনবিরোধী প্রতিবাদ, আন্দোলন সমূলে উৎখাত করা যায়। এবং ধীরে ধীরে তিব্বতীদের মধ্যেও চিনা সমাজতান্ত্রিক ভাবাবেগ জাগিয়ে তোলা সম্ভব হয়। কারণ, এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেনি চিনের সরকার। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই তিব্বতে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করেছে বেজিং। কার্যত গায়ের জোরেই তিব্বতী ভূখণ্ড দখল করেছে তারা। ঘটনার পর একমাস কাটতে চললেও চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, আন্দোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না। সবথেকে চিন্তার বিষয় হল, চিনের বিরোধিতায় একের পর এক তিব্বতী গায়ের আগুন ধরিয়ে আত্মাহুতি দিতেও পিছপা হচ্ছেন না! বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি আলোচনা শুরু হলে আন্তর্জাতিক মহলে চিনের উপর চাপ বাড়বে। তাই কমিটি তৈরি করে সমস্যা মেটাতে মরিয়া চিনের সরকার। হংকংয়ের সংবাদমাধ্যমে অন্তত এমনটাই দাবি করা হয়েছে। এর আগে ধরমশালার একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তিব্বতকে শুধুমাত্র দখল করেই রণে ভঙ্গ দিতে নারাজ শি জিনপিংয়ের প্রশাসন। তাদের চাহিদা আরও অনেক বেশি। তারা তিব্বত থেকে তিব্বতী সংস্কৃতিই মুছে ফেলতে চায়। তিব্বতীদের ধর্মবিশ্বাস, ঐতিহ্য, সামাজিক বৈশিষ্ট্য়- কোনও কিছুকেই স্বীকৃতি দেয় না বেজিং। বরং তারা চায়, ওই এলাকার মানুষও চিনের মূল ভূখণ্ডের যাবতীয় আদব-কায়দা অনুসরণ করুক। কিন্তু, তিব্বতীরা তা মানতে নারাজ। আপাতত এই নিয়ে বিবাদ মেটার কোনও লক্ষণ নেই বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। হংকংয়ের সংবাদমাধ্যমের দাবি, অধিকৃত তিব্বতের অন্দরে প্রতি মুহূর্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। সেখানাকার বাসিন্দাদের মতপ্রকাশের অধিকার কিংবা তথ্য জানার অধিকারও নেই। এমনকী, গোটা চিনের সাপেক্ষে তিব্বতীদের সংখ্যাও নগণ্য। এবং তাঁরা কোনও মতেই চিনের সঙ্গে মিশে যেতে চান না। এই প্রেক্ষাপটে তিব্বতের উপর প্রভাব চিরস্থায়ী করতে সেখানকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিশানা করছে চিনের প্রশাসন। ছেলে-মেয়েরা যখন স্কুলে ভর্তি হতে যাচ্ছে, তখন তাদের রাজনৈতিক ভাবনা এবং আদর্শ সম্পর্কে রীতিমতো মুচলেকা জমা দিতে হচ্ছে! এই নয়া নিয়ম যাতে কোনওভাবেই অমান্য না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে নির্দেশিকা জারি করেছে স্কুলশিক্ষা দফতর। এখানেই শেষ নয়। চিনা স্কুলে ভর্তি হতে গেলে তিব্বতী পড়ুয়াদের চিনা ভাষাও (ম্যান্ডেরিন) জানতে হবে। শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, স্কুলে ভর্তি হতে গেলে তিব্বতী পড়ুয়াদের একেবারে চিনা ছাত্রছাত্রীদের মতোই সাবলীলভাবে ম্য়ান্ডেরিনে কথা বলতে হবে।
from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/6RecmI5
via IFTTT
No comments:
Post a Comment