যখন তখন বাড়ির মধ্যে জল ছুঁড়ছে কোনও অশরীরী! কাউকে দেখা যাচ্ছে না। অথচ রহস্যজনকভাবে বাড়ির মেঝে ভিজে যাচ্ছে। বাড়ির দেওয়াল থেকে জল পড়ছে, এমনকি সিলিং থেকেও ঝরছে জল। শুধু তাই নয়, বাড়ির একরত্তি ছোট্ট মেয়েটির গায়ে থুতুও ছিটিয়ে দিচ্ছে কেউ! এমন খবরে তোলপাড় আসানসোলের (Asansol) কুলটির নিয়ামতপুরের বিষ্ণু বিহার কলোনি। ওই কলোনির একটি বাড়িতেই এমন ভূতুড়ে কাণ্ডকারখানা ঘটছে। যা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। পরিবারটির দাবি, নিশ্চিত ভূতের উপদ্রব হয়েছে। ভূত তাড়াতে পরিবারের সদস্যরা ওঝার কাছেও যান। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। অবশেষে বিজ্ঞান মঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবারটি। বৃহস্পতিবার ভুতুড়ে রহস্যের উদ্ঘাটন করতে ওই বাড়িতে যান বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীরা। ওই পরিবারের গৃহকর্ত্রী জানাচ্ছেন, ঘটনার সূত্রপাত দেড় মাস আগে। তাঁর মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। একদিন বাড়ির মধ্যে বসে পড়াশোনা করছিল হঠাৎ-ই তার মাথাই কেউ যেন জল ঢেলে দেয়। সারা শরীর ভিজে যায়। কিন্তু কাউকে দেখা যায়নি। এরপর প্রায়ই ঘটতে থাকে এমন কাণ্ড। প্রথমদিকে বিষয়টিতে আমল দিতে চাননি ওই পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা ভেবেছিলেন, হয়তো মেয়েটি নিজে থেকেই কিছু করছে। এরপর দেখা গেল, হঠাৎ করে কখনও বাড়ির মেঝে ভিজে যাচ্ছে, কখনও বাড়ির দেওয়াল বা ছাদ থেকে জল পড়ছে। প্রতিবেশীদেরও ডেকে দেখান ওই গৃহকর্ত্রী। তাঁর মেয়েও জানান, তার কেউ গায়ে জল ছুঁড়ে দিচ্ছে। আশ্চর্যজনকভাবে ওই ছাত্রী যখন একাই থাকে তখনই তার চারপাশে এই ঘটনা ঘটতে শুরু করে। অন্য কারও সামনে কিন্তু এই ঘটনা ঘটে না। গোটা ঘটনায় হতবাক পরিবারটি প্রথমে স্থানীয় এক ওঝার কাছে যায়। ওঝা ভূত তাড়াতে ঝাড়-ফুঁক করে। কিন্তু ভুতুড়ে কাণ্ড বন্ধ হয়নি। গৃহকর্ত্রী জানান, অসমের কামাখ্যা মন্দিরেও ভূত তাড়াতে পুজো দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও জল পড়া বন্ধ হয়নি। ওঝা, দেবতা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পরই বিজ্ঞান মঞ্চের দ্বারস্থ হয় পরিবারটি। এদিন বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীরা ওই বাড়িতে যান। তাঁরা প্রায় দু'ঘণ্টা বাড়িতে ছিলেন। তাঁরা গৃহকর্ত্রী এবং ছাত্রীকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সবদিক খতিয়ে দেখার পর বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীরা জানান, বাড়িটিতে কোনও অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘটছে না। যেটা ঘটছে খুবই সাধারণ। সরাসরি না বললেও তাঁরা এই ঘটনার পিছনে মা এবং মেয়েকেই সন্দেহ করেছেন। বিজ্ঞান মঞ্চের বিজ্ঞান কর্মী কিংশুক মুখোপাধ্যায়, প্রসূন রায় জানান, “আমরা প্রায় দু-ঘণ্টা ওই বাড়িতে ছিলাম। আমরা থাকাকালীন ওই বাড়িতে এক ফোঁটাও জল কোনও জায়গা থেকে পড়েনি। সুতরাং জল পড়ার যে দাবি উঠছে সেটা কার্যত ভুল। যদি জল সত্যি পড়ত তাহলে আমাদের সামনেও পড়ত। আমরা সারা বাড়ি ঘুরে দেখেছি থুতু পড়ার যে বিষয়টি বা থুথু ছিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও যেন সাজিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে।” ছাত্রীটির কাউন্সিলিংয়ের প্রয়োজন এবং অবিলম্বে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য গৃহকর্ত্রীকে পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা। এলাকার বাসিন্দারাও প্রথমে বিষয়টিকে অলৌকিক বা অন্য কিছু ভাবলেও বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীদের কথায় তাঁরাও হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন। এলাকার লোকের দাবি, এরপর হয়তো আর এখানে ভূতের উপদ্রব হবে না। যেটা হয়, সেটা বন্ধ হয়ে যাবে।
from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/wjMlWGB
via IFTTT
No comments:
Post a Comment