অতিরিক্ত সময়ের জোড়া গোল, জয় মানচিনি ব্রিগেডের - onlinewebsite24

Saturday, June 26, 2021

অতিরিক্ত সময়ের জোড়া গোল, জয় মানচিনি ব্রিগেডের

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক : সাধে কী বলা হয়, ইটালির ফুটবলে নবজাগরণ ঘটিয়েছেন রবার্তো মানচিনি। একটা সময় করোনা অতিমারির কারণে গোটা ইটালি কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই দুঃখ ভুলে বোনুচ্চিরা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। আজ অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ গোলে তাঁরা জয়লাভ করলেন। সেইসঙ্গে ইউরো ২০২০-র কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ইটালি। তবে শেষবেলা পর্যন্ত অস্ট্রিয়ার লড়াই বিশ্ব ফুটবল অনেকদিন মনে রাখবে। আজ লন্ডনের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছিল। তবে ইটালি বনাম অস্ট্রিয়ার শেষ ১৬-র ম্যাচ যে উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ম্য়াচের প্রথমার্ধে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। তবে অস্ট্রিয়ার ডিপ ডিফেন্সের প্রশংসা কিন্তু সকলেই করেছেন। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটা সুযোগ পেয়েছিলেন বোনুচ্চিরা। কিন্তু, সেগুলো তাঁরা কাজে লাগাতে পারেননি। ৬ মিনিটের মাথায় অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক বাকম্যানের সঙ্গে ইটালির চিরো ইমোবিলের সংঘর্ষ হয়। একটা থ্রু বল ধরতে গিয়ে স্লাইড করেছিলেন ইমোবিল। কিন্তু বাকম্যানের দস্তানায় শেষপর্যন্ত তা ধরা পড়ে। অল্পের জন্য ইটালির এই তারকা ফুটবলারের বুট বাকম্যানের বুকে লাগেনি। যাইহোক, এরপর খেলা নিজস্ব গতিতে এগোতে থাকে। ১১ মিনিটের মাথায় স্পিনাজোলার কাছে গোল করার সুযোগ এলেও, তিনি সেটা নষ্ট করেন। চলতি মরশুমে ইতিমধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন স্পিনাজোলা। বাঁ দিক থেকে তিনি উঠে এলেই আরও মারাত্মক হয়ে যান। তিনি বেরার্ডিকে একটা পাস বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু, বেরার্ডি নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেননি। বল প্রতিহত হয়ে আবারও স্পিনাজোলার কাছে চলে আসে। সেই ফিরতি বলেই শট নেন স্পিনাজোলা। কিন্তু, বল গোলপোস্টের সামান্য ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ১৭ মিনিটে দুর্ধষ একটা সেভ করেন বাকম্যান। ইটালি ক্রমে গতি বাড়াচ্ছিল। দলের লেফট ব্যাক স্পিনাজোলা আরও একটা গোল করার সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু, তাতে কোনও লাভ হয়নি। প্রথমার্ধের একেবারে শেষদিকে তাঁর বুকে আঘাতও লাগে। কিন্তু, তারপরেও তিনি হাল ছেড়ে দেননি। ম্যাচের প্রথমার্ধে ইটালির আক্রমণ যে অনেক শানিত ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ম্য়াচের ৫১ মিনিটে একটা ফ্রি-কিক পেয়েছিল অস্ট্রিয়া। কিন্তু, গোলপোস্টের ওপর দিয়ে বলটাকে উড়িয়ে দিলেন দাভিদ আলাবা। এই শট মারার পর তিনি নিজেই হতাশ হয়ে পড়েন। দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়ার শরীরী ভাষা একেবারে বদলে যায়। তাদের আক্রমণ অনেকটাই দেখতে পাওয়া গেল। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম কোয়ার্টারে অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক ড্যানিয়েল বাকম্যানকে খুব একটা সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি। ম্য়াচের বয়স যত বেড়েছে, ততই ইটালির ওপর চাপ বাড়তে শুরু করেছিল। ৬২ মিনিটে অস্ট্রিয়ার ফুটবলার সেবিৎজার দারুণ একটা শট নিয়েছিলেন। বোনুচ্চির পায়ে বল লেগে অন্যদিকে ঘুরে যায়। এই শটটা যে দোনারুমাকে অনেকটাই চাপে ফেলেছিল, সেকথা চোখ বন্ধ করে বলা যায়। অবশেষে ইটালির রক্ষণে দারুণ ধাক্কা দিলেন আর্নাউতোভিচ। বাঁ দিক থেকে দারুণ আক্রমণ তৈরি করেন দাভিদ আলাবা। তিনি বক্সের সামনে এসে বলটাকে ভাসিয়ে দেন। সেখান থেকে হেড দিয়ে গোল দিলেন আর্নাউতোভিচ। কিন্তু, অফসাইডের কারণে গোলটা বাতিল করে দেওয়া হয়। তবে গোলটা যে দৃষ্টিনন্দন ছিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। লাইনের বাইরে দাঁড়িয়ে রবার্তো মানচিনির চোয়াল ততক্ষণে অনেকটাই শক্ত হয়ে উঠছে। কারণ ম্যাচের সময় যে ক্রমশ বেরিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু তাঁর দল গোল পাচ্ছিল না। আজুরিরা সুযোগ তৈরি করলেও, ফিনিশ করতে পারেনি। রেগুলেশন টাইমে দুই দলেরই স্কোর ০-০ ছিল। পাঁচ মিনিটের ইনজুরি টাইম দেওয়া হয়। কিন্তু, তাতেও ফলাফলে কোনও পার্থক্য হয়নি। এরপর শুরু হয় অতিরিক্ত সময়ের খেলা। আজ্জুরিদের কী মন্ত্র দিলেন রবার্তো মানচিনি? মন্ত্র ছিল গোল করার। দুর্দান্ত কামব্যাক করল ইটালি। ৯৫ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ইটালি। গোলদাতা চিয়েসা। স্প্যানিজোয়েলার বাড়ানো বল বিপক্ষের জালে জড়াতে কিন্তু বিন্দুমাত্র ভুল করেননি তিনি। ১০৫ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করল ইটালি। আর সেইসঙ্গে অস্ট্রিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটা পোঁতা হয়ে গেল। গোল করলেন পেসিনা। শেষবেলায় কিছুটা হলেও স্কোর লাইন বদলে দিল অস্ট্রিয়া। কর্নার কিক থেকে অস্ট্রিয়ার হয়ে গোল করলেন পরিবর্ত ফুটবলার সাসা কালাজিক। ১,১৬৯ মিনিট গোল হজম করতে হল দোনারুমাকে। তবে এই ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল ফ্রাঙ্কো ফোডার দল। বেলজিয়াম এবং পর্তুগালের মধ্যে যে দল জিতবে, এবার তাদের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে হবে ইটালিকে।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3dkiurD
via IFTTT

No comments:

Post a Comment