এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। আউটডোরেও শিশু রোগীর ভিড় বাড়ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রতিটি শিশুরই কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার ডা. তাপস ঘোষ। হাসপাতাল সূত্রে খবর, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রতিদিনই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ৩০-৪০টি শিশু। বর্তমানে হাসপাতালে ১৪০টি শিশু ভর্তি আছে। যার মধ্যে অধিকাংশেরই বয়স ১ বছরের নীচে। এছাড়া আউটডোরেও এই ধরনের সমস্যা নিয়ে গড়ে ১০০টি শিশু আসছে। যদিও এটা নতুন কিছু নয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের শিশু বিভাগের HOD ডা. কৌস্তভ নায়েক। তিনি বলেন, 'প্রতি বছরই সিজন চেঞ্জের জন্য শিশুদের জ্বর, শ্বাসকষ্ট হয়। তবে এবছর একটু বেশি হচ্ছে। ভাইরাল ইনফেকশন থেকেই এরকম হচ্ছে। ১ বছরের নীচের শিশুদের শ্বাসকষ্ট বেশি হচ্ছে।' বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার ডা. তাপস ঘোষ জানান, কোভিডের মতোই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের প্রথমে জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হচ্ছে। তারপর শ্বাসকষ্ট শুরু হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কারোর শরীরে কোভিড ধরা পড়েনি এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। কেবল জেলারই নয়, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি থেকেও জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুরা বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তার ফলেই বেড সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সুপার। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন আরেকটি শিশু বিভাগ খোলা হয়েছে ডা. তাপস ঘোষ বলেন, 'মঙ্গলবারই বাড়ানো হয়েছে ২০টি বেড। আগে শিশু বিভাগে ছিল ১২০টি বেড। বর্তমানে শিশু বিভাগে ১৪০টি বেড করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২০টি বেড বাড়ানো হচ্ছে। নতুন আরেকটি শিশু ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যা দু তিনদিনের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে। তৈরি রাখা আছে পেড্রিয়াটিক আইসিসিইউ, স্বয়ংসম্পূর্ণ ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট। ভেন্টিলেটরেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।' অভিভাবকদের অতিরিক্ত সচেতনতা ও সতর্কতার জন্যই হাসপাতালে শিশুদের ভিড় বাড়ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এর জন্য অভিভাবকদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে প্রতিটি অভিভাবকের প্রতি তাঁর বার্তা, শিশুদের শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ার আগে হাসপাতালে নিয়ে এলে নিবুলাইজার দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। তাই শিশুদের সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসুন। উল্লেখ্য, গত মাস থেকে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতাল, মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে শুরু করে রানাঘাট সদর হাসপাতাল, দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালেও জ্বর, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুর ভিড় বাড়ছে। যা কোভিডের তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার মাঝে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3mcYeeW
via IFTTT
No comments:
Post a Comment