২০১৪ সালে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল বর্ধমানের খাগড়াগড় ()। উঠে এসেছিল আর্ন্তজাতিক জঙ্গি যোগ। আতঙ্ক বাড়িয়েছিল খাগড়াগড়ের বাসিন্দাদের। আবারও সেই খাগড়াগড়ের নাম শিরোনামে আশায় আতঙ্ক বাড়ল এলাকায়। এবার তৈরির কারখানার হদিশ মিলল সেখানে। খাগড়াগড়ের মাঠ পাড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতেই ছাপা চলছিল ভারতীয় টাকা। এমনকী, ছাপা হত ডলারও। কয়েকদিন ধরেই শহরে জাল নোট ছড়িয়ে পড়ার খবর পুলিশের কাছে আসছিল। এরপরই বৃহস্পতিবার বিকালে মাঠ পাড়া এলাকার ওই বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু রাসায়ানিক, ডলারের ডাইস, ভারতীয় ৫০০ টাকার জাল নোট ও নোটের সাইজের প্রচুর পরিমাণে কাগজ। এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এরপরই ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় সিবিআই () এর আই কার্ড। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে মানবাধিকার সংক্রান্ত ও বিভিন্ন সংস্থার আইকার্ডও। এছাড়া মিলেছে ওয়ান মিলিয়ন লেখা ডাইস ও ইউনাইটেড স্টেটস অফ অ্যামেরিকা লেখা ডাইস ও একটি ওয়ান মিলিয়ন ডলার লেখা নোট। পুলিশ তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে চেয়ে বর্ধমান আদালতে পেশ করে। তবে বর্ধমান থানার পুলিশ উদ্ধার হওয়া জাল টাকা পরীক্ষার জন্য শালবনীতে পাঠাচ্ছে। সেই ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠা খাগড়াগড়ের নাম নিতে লজ্জা পান ওই এলাকার বাসিন্দারা। সেই সময় উঠে আসে আর্ন্তজাতিক জঙ্গি যোগ। উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণে বোমা,আইডি ও রাসায়নিক। তার ঠিক ৮ বছর পর ১৯ মে খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণ স্থল থেকে প্রায় ১ কিমি দূরত্বে উদ্ধার করা হল জাল নোটের কারখানা। ঘটনায় আবারও চিন্তা বাড়িয়েছে ওই এলাকার বাসিন্দাদের। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপাল সিং বলে এক ব্যক্তি নিজেকে মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দিয়ে দুই মহিলাকে নিয়ে এই ভাড়া বাড়িতে ওঠেন। তারপরে আরও শিশু সহ এক মহিলা যান ওই বাড়িতে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ বাড়িতে হানা দিয়ে জাল নোট সহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় ভাড়া বাড়ি পাওয়া যায়। কিন্তু, এই বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। যদিও বাড়ির মালিক সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। খাগড়াগড়ের জাল নোট কারখানা কাণ্ডের পর পুরো এলাকা থমথমে। যে বাড়িটি থেকে বৃহস্পতিবার জাল নোটের কারখানার হদিশ মিলেছে শুক্রবার তা ভিতর থেকে বন্ধ করা রয়েছে। বাড়িতে একজন পরিচারিকা ছাড়া কেউ নেই। ওই এলাকার প্রতিবেশীরা বলছেন, ওই বাড়িটির ভাড়াটিয়াদের আচরণে কোনও অসংলগ্নতা তাঁদের নজরে আসেনি। কিন্তু, একজন মহিলার কিছু মানসিক সমস্যা ছিল। চেঁচামেচি হত। তেমন কোনও বাইরের লোককে আসতে তাঁরা দেখেননি। অন্যদিকে এলাকায় বাড়িভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়ার নথিপত্র থানায় জমা দেওয়ার জন্য পুলিশের তরফে গত কয়েকমাস ধরে প্রচার চলেছে। এক্ষেত্রেও তা হয়েছে কী না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এলাকার সচেতন বাসিন্দারা মনে করছেন, এই নিয়ে সবার সচেতন হওয়া উচিত। এলাকায় নাগরিক কমিটি গড়ে তোলা উচিত। এভাবে বারবার এলাকার বদনাম হওয়াতে তাঁরা আশঙ্কায় রয়েছেন। অন্যদিকে বাড়ির মালিক সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে গিয়েও দেখা যায় বাড়ির ভিতর থেকে কোনও সাড়া নেই। দরজা বন্ধ ভিতর থেকে। এলাকায় দমবন্ধ পরিবেশ। তবে এবার বোমা বারুদের নয়। ধৃতদের মধ্যে দীপঙ্কর চক্রবর্তী দক্ষিণ ২৪পরগনার এবং গোপাল সিং ও বিপুল সরকার বর্ধমান শহরের বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনাস্থলে CID-র একদল প্রতিনিধি ওই বাড়িতে পরিদর্শন করেন। জালনোট চক্রে ধৃতদের ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বর্ধমান আদালতের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সুজিত কুমার বন্দোপাধ্যায়।
from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/R5qiKgB
via IFTTT
No comments:
Post a Comment