এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: 1978 সাল৷ ধীরুভাই আম্বানি এবং তাঁর পরিবার নিয়ে বাস করছেন মুম্বইয়ের একমাত্র আকাশচুম্বী বিল্ডিং উষা কিরণের 22 তম তলায় । আবাব ওই ভবনের 14 তলায় সপরিবারে থাকতেন ব্যবসায়ী বাসুদেব সালগাঁওকার । সেই সময় আম্বানি এবং সালগাঁওকাররা উভয়ই ব্যবসায়িক টাইকুন বলে পরিচিত। প্রতিবেশির পাশাপাশি ধীরুভাই এবং বাসুদেব ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন। বাসুদেব সালগাঁওকার মৃত্যুর পর, ধীরুভাই রাজের বন্ধু, পথপ্রদর্শক এবং পিতার মতো হয়ে উঠেছিলেন। রাজ এবং মুকেশ আম্বানি সমবয়সী এবং অনিল আম্বানি মাত্র দুই বছরের ছোট হওয়ায় তাদের মধ্যেও গড়ে ওঠে নিবিঢ় বন্ধুত্ব । সালগাঁওকার পরিবারটি উত্তর গোয়ার সালিগাও থেকে এসেছে। দত্তরাজ সালগাঁওকার তাঁর প্রয়াত বাবা বাসুদেব সালগাঁওকারের মতোই একজন বড় ব্যবসায়ী এবং তিনি ভিএম-সালগাওকার গ্রুপ অফ কোম্পানিজের মালিক তথা ম্যনেজিং ডিরেক্টর। । রাজ গোয়ার বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব ‘সালগাঁওকার’-এর মালিকও। তিনি স্মার্ট লিঙ্ক নেটওয়ার্ক সিস্টেমের একজন স্বাধীন পরিচালকও। তিনি বম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের V.J.T.I থেকে প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন বিজনেস স্কুল থেকে ফিনান্সে এমবিএ করেছেন। দুটি পরিবার একে অপরের বেশ ঘনিষ্ঠ ছিল ফলে একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত ছিল ৷ তাও ধীরুভাইয়ের কন্যা দীপ্তি ও দত্তরাজের মধ্যে এক প্রকার প্রথম দর্শনে প্রেম হয়েছিল কারণ দুজন তাত্ক্ষণিকভাবে প্রেমে পড়েছিলেন। প্রেমে পড়ার পরে, দুজন একে অপরের সঙ্গে ডেটিং শুরু করেন এবং পাঁচ বছরের প্রেমের পর, দীপ্তি এবং রাজ 31 ডিসেম্বর, 1983-এ বিয়ে করেন। তারপর তারা গোয়াতে চলে যান এবং সেখানে সুখে সংসার শুরু হয়েছিল। রাজ জানিয়েছিলেন যে তাদের বিয়ে দুটি বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করেছিল ৷ পাশপাশি এই প্রসঙ্গে বলেছিলেন,‘‘আমি পড়াশুনার জন্য মুম্বইতে ছিলাম, এবং উষা কিরণ বিল্ডিংয়ে থাকতাম যেখানে আম্বানিরাও থাকতেন। মুকেশ এবং আমি সমবয়সী এবং আমরা ভাল বন্ধু ছিলাম। আমাদের থেকে দুই বছরের ছোট অনিলও তাই। আমার সঙ্গে দীপ্তির দেখা হয়, আমরা প্রেমে পড়েছিলাম এবং সেকথা পরিবারকে জানিয়েছিলাম, তারাও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গিয়েছিল। এটা ওর পরিবারের প্রথম বিয়ে, কিন্তু আমাদের পরিবারের শেষ বিয়ে, কারণ আমি সাত সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন।’’ দীপ্তির ক্ষত্রে মুম্বইয়ের মেয়ে হয়ে গোয়াতে চলে আসা বেশ কঠিন কাজ ছিল। তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন সবাই মুম্বইয়ে ছিলেন। তাকে নতুন কর ভাষা শিখতে হয়েছিল কারণ তাঁর শাশুড়ি কেবল কোঙ্কনিতেই কথা বলতেন। একই সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘1983 সালে যখন আমার বিয়ে হয়, তখন গোয়াতে কিছুই ছিল না, এবং আমার মনে আছে যে আমি আমার বাবার কাছে এজন্য চিৎকার করেছিলাম। আর তিনি বলেন এরজন্য যা যা পরিবর্তন করতে হবে তা করতে। সেই সময়ে, আমাদের এখানে কিছুই ছিল না, তাই তিনি একটি বিশাল স্যাটেলাইট ডিশ ইনস্টল করেছিলেন কারণ আমাদের সিএনএন দেখতে হত। তিনি আমাকে একটি ফ্যাক্স মেশিন উপহার দিয়েছিলেন এবং তিনি আমাকে প্রতিদিন ফ্যাক্স পাঠাতেন। এমনকি আমার বাচ্চাদের জন্য, যখন তারা দুই বছরের, আমার বাবা ফ্যাক্সের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন আর তখন গোয়াতে কোনও ফ্যাক্স মেশিন ছিল না।’’ রাজ এবং দীপ্তি থাকতেন তাদের পৈতৃক প্রাসাদে যার নাম হীরা বিহার। পৈত্রিক বাড়ি ছাড়াও, সৈকতের ডানদিকে ক্যান্ডোলিমে তাদেরএকটি বাড়ির হয়। পাঞ্জিমের কাছে তাদের ব্যক্তিগত বাড়িতে তারা সপ্তাহে একবার যেতেন । বিলাসবহুল বাড়িটি একটি খাড়ার উপর নির্মিত, এবং সমুদ্রের দিকে নেমে গিয়েছে। রাজ, যিনি খাবার পছন্দ করেন, তিনি সবসময় তার স্ত্রীর রান্নার প্রশংসা করেন এবং বলেছিলেন যে তিনি একেবারে তার মায়ের মতোই রান্না করেন। দীপ্তি এবং রাজ হলেন দুটি সুন্দর বাচ্চা, ইশেতা সালগাঁওকার এবং বিক্রম সালগাঁওকারের বাবা-মা। দুটি বাচ্চাই তাদের দাদু ধীরুভাই আম্বানির খুব কাছের ছিলেন। বিক্রম ওয়ার্টন বিজনেস স্কুল থেকে স্নাতক। সাংবাদিকতা ও শিল্পকলায় আগ্রহ থাকা ইশেতা 2016 সালের 4 ডিসেম্বর ডায়মন্ড জুয়েলারি ডিজাইনার নীরব মোদীর ছোট ভাই নিশাল মোদীকে বিয়ে করেন।আম্বানিরা তাদের প্রিয় ভাগ্নীর জন্য দুটি জমকালো প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্ল্যামার জগতের বিখ্যাতরা।
from Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা বাংলা খবর - Ei Samay https://ift.tt/3qjzF3s
via IFTTT
No comments:
Post a Comment