এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: অবশেষে কি গলছে বরফ? দীর্ঘকালীন ভারত-পাক (India-Pakistan) শত্রুতার অবসান ঘটতে চলেছে? পাকিস্তানের নয়া জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে মিলল তেমনই ইঙ্গিত। আগামী ১০০ বছর ভারতের সঙ্গে কোনও শত্রুতা রাখতে চায় না পাকিস্তান। ১৪ জানুয়ারি অর্থাৎ আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা নীতি (Pakistan New National Security Policy) অনুযায়ী এমনই ঘোষণা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। ১০০ পৃষ্ঠার এই নয়া নীতিতে ভারত সহ প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিতে চলেছে ইসলামাবাদ। শুধু তাই নয় অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে এই নীতিতে। ফলে কাশ্মীর সমস্যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ছাড়াই ভারতের সঙ্গে এবার বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের দরজা খোলা রাখতে চাইচে পাকিস্তান। সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি প্রথমসারির সংবাদপত্রে এ বিষয় সম্পর্কে সে দেশের এক সরকারি আধিকারিক লিখেছেন, 'আগামী ১০০ বছর ভারতের সঙ্গে আমরা কোনও শত্রুতা চাই না। নতুন এই পলিসিতে নিকট প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের নীতি রয়েছে। যদি এ বিষয়ে কোনও আলোচনা বা অগ্রগতি হয় তাহলে ভারতের সঙ্গে আগের মতো ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে।' জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের নতুন এই জাতীয় নিরাপত্তা নীতির কেন্দ্রীয় থিম হবে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। একই রকমভাবে এতে থাকবে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের কথা। এটিই হবে পাকিস্তানের নয়া পররাষ্ট্রনীতি। অন্যদিকে, ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো বলে দাবি করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ইসলামাবাদে এক আন্তর্জাতিক চেম্বার সামিটের উদ্বোধনে গিয়ে এমনই দাবি জানিয়েছেন ইমরান। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানকে বিশ্বের ‘সস্তাতম দেশ’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ইসলামাবাদে রাওয়ালপিণ্ডি চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (RCCI) আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক চেম্বার সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল। সেখানেই যোগ দিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের তুলনায়, বিশেষত ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল।’ একইসঙ্গে বিরোধীদের একহাত নিয়ে ইমরান খান বলেন, ‘পাকিস্তান এখনও বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় সস্তা দেশ। তবু বিরোধীরা আমাদের অযোগ্য বলছে। কিন্তু বাস্তব হল, আমাদের সরকার সমস্ত ধরনের বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষা করছে।’ এপ্রসঙ্গে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান তেলের দামের প্রসঙ্গ টেনে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে তেলের দাম এখনও অনেক কম।’ প্রসঙ্গত, বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর অনুরোধের শর্তসাপেক্ষে একটি অর্থবিল সংসদে পাশ করানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইমরান খানের সরকার। যা নিয়ে বিরোধী পক্ষের সঙ্গে ইমরান সরকারের জোর বিতর্ক চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতেই ইমরান খান বিশ্বের অন্যান্য দেশ সহ ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থার তুলনা টানলেন বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। যদিও ইমরান খানের দাবিকে কটাক্ষ করে সংসদের বিরোধী দলনেতা তথা PML-N প্রেসিডেন্ট শেহবাদ শরিফ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কীভাবে একটি দেশের পক্ষে একদিকে পারমাণবিক শক্তি এবং অন্যদিকে ভিক্ষার বাটি ধরে থাকা সম্ভব হয়েছিল?’ জানা গিয়েছে, বিতর্কিত অর্থবিলটি সংসদে পাশ হলে ১ বিলিয়ন ডলার অর্থ সাহায্য পাবে পাকিস্তান। কিন্তু বিলটির সঙ্গে পাকিস্তানের স্টেট ব্যাঙ্কের সায়ত্ত্বশাসনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ১ বিলিয়নের জন্য দেশ ‘ঝুঁকির’ মধ্যে চলে যাবে। এই বিলটি পাশ হলে দেশের অর্থনীতির সঙ্গে নিরাপত্তাও বিপন্ন হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল PML-N। এপ্রসঙ্গে ইমরান খানকে তোপ দেগে সংসদের বিরোধী দলনেতা তথা PML-N প্রেসিডেন্ট শেহবাদ শরিফের কটাক্ষ, ‘১ বিলিয়নের জন্য পাকিস্তানের অর্থনীতি এবং স্বাধীনতা বিক্রি করে দিতে চাইছে।’ সমগ্র পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইমরান খানের ইস্তফারও দাবি তুলেছেন বিরোধীরা।
from Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা বাংলা খবর - Ei Samay https://ift.tt/3fkoqS4
via IFTTT
No comments:
Post a Comment